যশোর বোর্ডের আড়াই কোটি টাকার সর্বশেষ গন্তব্য খুঁজছে দুদক

যশোর প্রতিনিধি
১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৪২আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৪২

চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষাবোর্ডের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত রিপোর্ট দিতে আরও তিন দিনের সময় চেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রধান অভিযুক্ত হিসাব সহকারী আব্দুস সালামের বক্তব্য নিতে না পারায় এ সময় প্রার্থনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। টাকার সর্বশেষ গন্তব্য পর্যন্ত তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক। সেক্ষেত্রে আসামির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে যশোর শিক্ষাবোর্ড সরকারি কোষাগারে জমার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করে। এ ৯টি চেক জালিয়াতি করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নামে এক কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার ১০ টাকা এবং শাহীলাল স্টোরের নামে ৬১ লাখ ৩২ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। 

গত ৭ অক্টোবর বোর্ডের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বোর্ডের চেয়ারম্যান ওইদিনই কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গতকাল ১৮ অক্টোবর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কমিটি তদন্ত শেষ করতে আরও তিনদিনের সময় প্রার্থনা করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান কেএম রব্বানী জানান, প্রধান অভিযুক্ত হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম নিজের দায় স্বীকার করে একটি পত্র দিয়েছেন। কিন্তু তিনি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। যে কারণে তদন্ত শেষ করতে সময় চাওয়া হয়েছে। এ সময়ের পরই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিবসহ পাঁচ জনের নামে দুদক মামলা করলেও আমাদের তদন্তে তার কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ, আমরা ও দুদক পৃথকভাবে তদন্ত করছি। কেউ কারও সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করছি না। ফলে, আমরা তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট জমা দেবো।

এদিকে দুদকও শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। টাকার সর্বশেষ গন্তব্য পর্যন্ত তদন্ত করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। সেক্ষেত্রে আসামির সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত।

তিনি বলেন, আমি কী কী তথ্য-প্রমাণ পাবো সেটাই তদন্ত। ফলে, তদন্তে এ ঘটনায় বোর্ডে কার কী দায়িত্ব ছিল, অডিট বিভাগ বিভাগের কী দায়িত্ব ছিল সেটাও দেখা হবে। যে টাকা উদ্ধার হয়েছে তা কীভাবে এসেছে এবং সরকারি কোষাগারে জমা পড়লে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে যে টাকা আত্মসাৎ হয়েছে সে টাকার সর্বশেষ গন্তব্য কোথায় এবং কীভাবে গেলো তা সব তদন্তের আওতায় আসবে। 

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পেয়ে সোমবার বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম, ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার মানসে দুর্নীতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক এএমএইচ আলী আর রেজা, চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোল্লা আমীর হোসেন চেকে স্বাক্ষর এবং অন্যদের সঙ্গে যোগসাজসে টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী