দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী এরশাদুল হক (৩৫) মারা গেছেন। শুক্রবার রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ নিয়ে এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো দুই জনে।শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত এরশাদুল হক উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি আসন্ন নির্বাচনে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামে এই ঘটনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বাদল সরকার (২৩) নামে এক যুবক। নিহত বাদল ওই ইউনিয়নের নান্দুরা গ্রামের সন্তোষ সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটঘর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বার্ধক্যজনিত কারণে প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকেন। এ অবস্থায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার স্থলে ছেলে এরশাদুল হক এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতে ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের বাজার এলাকায় ওয়াজ মাহফিল চলছিল। সেই মাহফিলে এরশাদ ও বাদলসহ কয়েকজন যোগ দেন। ওয়াজ মাহফিলে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এরশাদ। সেখান থেকে তারা মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। পথে কুড়িঘর গ্রামে দুর্বৃত্তরা গুলি করলে চালকের আসনে বসা বাদল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এরপর এরশাদকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত এরশাদকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় পৌঁছার আগেই রাস্তায় এরশাদ মারা যান।
মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘বাদলের পর এরশাদও ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।’









