শাহজালালের মাজারের দানের টাকা যায় কই, ডেগ সিলগালা করলো প্রশাসন

সিলেট প্রতিনিধি
১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১৭:০৮

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এর বদলে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকাল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে নতুন দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

এ ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল মাজার–ভক্ত দরগাহ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ‘শাহজালাল, শাহজালাল’ স্লোগান দেন। এ সময় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাজার অনুসারী বলেন, প্রায় সাত শ বছর ধরে যে প্রক্রিয়ায় মাজার পরিচালিত হয়ে আসছে, সে ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করতেই এই কাজ করা হয়েছে।

নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এই দান বাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।

এ ব্যাপারে দরগাহের অন্যতম খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দানবাক্স সিলগালা করা হয়েছে, এটা মোটেও সঠিক পদ্ধতি নয়। এটা খুবই অন্যায় হচ্ছে। এটা মাজার ও অলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড। দানের টাকা কেবল খাদেমরা নেন না, মসজিদসহ মাজারের উন্নয়নেও ব্যয় করেন,হিসাব চাইতেই পারেন কেউ। কিন্তু জোরজবরদস্তি করে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চলছে, সেটা ঠিক নয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাজারে দানের টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার একটা অনিয়মতান্ত্রিক পরম্পরা চালু হয়েছে। হজরত শাহজালাল (রহ.) অবিবাহিত ছিলেন, তার কোনও উত্তরাধিকার ছিলেন না। এখানে দানের যে টাকা আসে, সেটা পাবলিক সম্পত্তি। স্থানীয় প্রশাসন দানের টাকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় আনতেই উদ্যোগী হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দানের কোনও টাকা সরকার নেবে না। যাবতীয় অনিয়ম দূর করে সব টাকাই মাজার এবং মাজারের মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হবে। এ ছাড়া মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে একটা মহাপরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক করে খাদেম, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে।

/এএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এবার দিল্লির বিমানবন্দরে আটক ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকে
এবার দিল্লির বিমানবন্দরে আটক ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকে
কলকাতায় মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন
কলকাতায় মারা গেলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন কি বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ?
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন কি বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ?
সব সময় মন খারাপ থাকে? সাধারণ বিষণ্ণতা আর ডিপ্রেশনের পার্থক্য কী
সব সময় মন খারাপ থাকে? সাধারণ বিষণ্ণতা আর ডিপ্রেশনের পার্থক্য কী
সর্বাধিক পঠিত
এ যেন অন্য এক মিরপুর-১০, প্রশংসায় ভাসছে সরকার
এ যেন অন্য এক মিরপুর-১০, প্রশংসায় ভাসছে সরকার
ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
এক বড় দলের সা. সম্পাদকের নাকি ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক  
এক বড় দলের সা. সম্পাদকের নাকি ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক