বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিট গ্রুপের টার্মিনালে নতুন এলএনজির কার্গো যুক্ত করা যাচ্ছে না। এতে করে এলএনজি সরবরাহে ফের চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর আংশিক চালু হওয়া এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটিও পূর্ণ সক্ষমতায় নিতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এটাও জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমাচ্ছে।
এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এতে বাসাবাড়িতে গ্যাস ও বিদ্যুতের ভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্যাসের ঘাটতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না, ফলে বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে লোডশেডিং। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। একইসঙ্গে গ্যাসের চাপ কমলে শিল্পো উৎপাদনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
জানা গেছে, বর্তমানে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি টার্মিনালের মোট সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রতিদিন ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল ও অতিরিক্ত বাতাসের কারণে সামিটের টার্মিনালে এলএনজিবাহী জাহাজ ভেড়ানো যায়নি। একটি জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে গেছে। ফলে গত সোমবার বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনালের সরবরাহ কমে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। আগামী ১৫ আগস্ট নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আরপিজিসিএলের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন কার্গো যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
তারা জানায়, গত ২১ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির পর বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেটের টার্মিনালটি ৬ আগস্ট আংশিকভাবে চালু হয়। বর্তমানে সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। এর স্বাভাবিক সক্ষমতা ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এক সেমিনারে জানিয়েছেন, দুটি বয়লারের একটি বর্তমানে চালু রয়েছে। দ্বিতীয়টি সচল করতে প্রথমটি বন্ধ রাখতে হবে। এতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা পুরো টার্মিনালের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে। কখন বন্ধ রাখলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গ্রাহকের ওপর প্রভাব কম পড়বে, তা নিয়ে এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
গ্যাসের ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ
গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে বর্তমান সংকট হতো না।’
পেট্রোবাংলা জানায়, বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ দেশীয় কূপগুলোর উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট করে কমছে।
একই সেমিনারে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী, জ্বালানি আমদানি এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে। ২০৩০ সালে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফূট হতে পারে।









