একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল করতে সুইজারল্যান্ডে রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত ম্যারাথন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ আলোচকেরা। রাতভর লুইসার্ন হ্রদের তীরে অনুষ্ঠিত এই নন-স্টপ আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা কূটনৈতিক টেবিলে অনড় রয়েছে। এই বৈঠকটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার পথ তৈরি করছে।
লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে শনিবার ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে সঙ্গে নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদল এই উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেয়।
নেপথ্যের আলোচনা সম্পর্কে একজন মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের মধ্যে বৈঠকে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল লেবাননে সংঘাত এড়ানোর মেকানিজম এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
ওই কূটনীতিক আরও জানান, প্রথম দফার এই বৈঠকে মূলত পারমাণবিক চুক্তির সবকটি উপাদান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এবং এটি বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে ইরানের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির বিষয়টিও টেবিলে বেশ গুরুত্ব পায়।
মার্কিন কূটনীতিক বলেন, আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি যে, এই আন্তর্জাতিক জলপথটি যেন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এই ফ্রন্টে আমাদের বেশ ভালো অগ্রগতি হয়েছে।
মার্কিন কূটনীতিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং কীভাবে সব পক্ষকে একই নীতিতে সারিবদ্ধ রাখা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা এবং কারিগরি টিমগুলোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়েও কথা বলেছেন কর্মকর্তারা।
বৈঠকের সার্বিক অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা নিয়ে ওই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, উভয় পক্ষকে সমস্যাগুলো সমাধান করতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো দারুণভাবে সাহায্য করছে। আমরা মনে করছি, এই প্রাথমিক রাউন্ডের আলোচনা আগামী দিনে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, উচ্চপর্যায়ের এই রাজনৈতিক আলোচনা সোমবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক শীর্ষ নেতারা ফিরে গেলেও কারিগরি টিমগুলো আলোচনা ও দরকষাকষি অব্যাহত রাখতে আরও কিছুদিন সুইজারল্যান্ডেই অবস্থান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস








