দুই দশক পর গাজার শাসনক্ষমতা ছেড়ে দিতে প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে সংগঠনটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার দেওয়া এ ঘোষণার পরে হামাস জানিয়েছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের অংশ হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব ছেড়ে দিতেও তারা প্রস্তুত। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিপরীতে একতরফাভাবে নিরস্ত্র হওয়ার কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি সংগঠনটি।
হামাস যে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে শাসনভার হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে, সেটির নাম ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এটি গঠিত হলেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত কমিটির সদস্যদের গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হামাস প্রশাসনের প্রধান মোহাম্মদ আল-ফারা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এনসিএজির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা জানান। তিনি বলেন, গাজার প্রশাসনে হামাসের রাজনৈতিক ভূমিকা তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হবে। তবে এনসিএজি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পেশাদার দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, দখলদারদের অজুহাত দূর করতেই হামাস নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গাজা উপত্যকার দায়িত্বে আর থাকবে না হামাস, অথচ দখলদার বাহিনী এখনও তাদের আগ্রাসন ও নির্মূলের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হামাসের এই ঘোষণা মূলত স্থবির হয়ে পড়া শান্তি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রতীকী উদ্যোগ। এই অচলাবস্থার কারণে গাজায় পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা, যা বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে, সেখানে সীমিত পরিসরে ত্রাণ, পুনর্গঠন ও এনসিএজির শাসনব্যবস্থা চালুর ইসরায়েল-সমর্থিত প্রস্তাবেরও জবাব এটি।
তবে হামাসের পক্ষ থেকে এ ঘোষণার ফলে গাজায় আংশিকভাবে কার্যকর যুদ্ধবিরতি কতটা শক্তিশালী হবে বা মানবিক সংকটে থাকা অবরুদ্ধ উপকূলীয় ভূখণ্ডটির পরিস্থিতির উন্নতি হবে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। এদিকে, জানুয়ারিতে এনসিএজি গঠনের পর থেকে এর ১৩ সদস্যকে গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরায়েল। তারা বর্তমানে কায়রোতে অবস্থান করছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিএজির চেয়ার আলি শাআত জানান, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সক্ষমতা নিশ্চিত হলেই কমিটি জাতীয় দায়িত্ব গ্রহণে পুরোপুরি প্রস্তুত। বোর্ড অব পিস হামাসের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় জানায়, তারা বিষয়টি ‘নোট’ করেছে। তাদের ভাষ্য, গাজার মানুষের জরুরি চাহিদা পূরণে প্রতিশ্রুতির চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপকেই মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে দেখা হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, তাদের মূল নীতি হলো ‘একটি কর্তৃপক্ষ, একটি আইন ও একটি অস্ত্র’। অর্থাৎ সব অস্ত্র এনসিএজির নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে।

‘পুরো বিশ্বের জন্য লজ্জা’, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ নিয়ে যা বললেন মিসরের কোচ
আমেরিকাকে হাঁটু গেড়ে বসিয়েছে ইরান, ভারতীয় পন্ডিতের বক্তব্য ভাইরাল






