বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মাঠের ভেতর ‘ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ’ সংক্রান্ত বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে আর্জেন্টিনা। এই ঘটনার পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— রবিবারের মেগা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে লিওনেল মেসির দল কি ফিফা কর্তৃক টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ হতে পারে? বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নিয়মাবলী এবং অতীতের সমগোত্রীয় ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ফাইনাল থেকে নিষিদ্ধের কোনও সম্ভাবনা আছে কি?
ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ইতিহাস ও বর্তমান ধারা অনুযায়ী, এই ঘটনার কারণে আর্জেন্টিনার মতো বড় দলকে সরাসরি বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে বহিষ্কার বা নিষিদ্ধ করার কোনও বাস্তব সম্ভাবনা নেই।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের ভেতর রাজনৈতিক বা অ-খেলোয়াড়সুলভ আচরণের সর্বোচ্চ শাস্তি সাধারণত দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা। অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (সাসপেনশন) দেওয়া হতে পারে, কিন্তু পুরো দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত ফিফা সাধারণত এ ধরনের রাজনৈতিক বার্তার ক্ষেত্রে নেয় না।
কী বলছে ফিফার সংবিধিবদ্ধ নিয়ম?
ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ৬০ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং স্টেডিয়াম নিরাপত্তা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, স্টেডিয়াম বা মাঠের ভেতর যেকোনও ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা উসকানিমূলক বার্তা প্রদর্শন সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। ম্যাচ চলাকালীন বা ম্যাচ শেষের অফিশিয়াল উদযাপনে ফুটবল বহির্ভূত কোনও রাজনৈতিক দাবি তোলা হলে তা ফিফার আচরণবিধির পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হয়।
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ব্যানারটিতে লেখা ছিল ‘Las Malvinas son Argentinas’ (ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার), যা সরাসরি একটি ভূরাজনৈতিক ও সার্বভৌমত্ব বিরোধের প্রতীক। ১৯৮২ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থাকায় এই বার্তাটি ফিফার দৃষ্টিতে সরাসরি আইন লঙ্ঘন।
অতীত ইতিহাস কী বলছে?
অনুরূপ ঘটনায় আর্জেন্টিনার জরিমানা গোনার অতীত নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে ঠিক একই ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন আলবিসেলেস্তেরা। তখন ফিফা তাদের ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলের অসদাচরণ সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ’ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০,০০০ সুইস ফ্রাংক (তৎকালীন প্রায় ২০,০০০ পাউন্ড) জরিমানা করেছিল।
এছাড়া ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনার একটি স্টেডিয়ামে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের প্রতীক ঢেকে দেওয়ার ঘটনা নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল, যেখানে ফিফার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
ফিফা ইতোমধ্যে আটলান্টার সেমিফাইনাল শেষে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েলের উসকানিমূলক ফেসবুক ও ‘এক্স’ পোস্টের কারণে পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
তবে সমস্ত আইনি দিক পর্যালোচনা করে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামতে মেসির দলের কোনও বাধা নেই। তবে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি না করার জন্য ফিফার পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা শুনতে হতে পারে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস









