গত কয়েক দশক ধরে খাদ্যের পুষ্টি উপাদান আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। দ্রুতবর্ধনশীল নতুন জাতের ফসল ও বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে মার্কিন কৃষি বিভাগ জানায়, তার আগের ২২ বছরে লেবুতে ভিটামিন সি কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, গাজরে ক্যালসিয়াম কমেছে চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি এবং কলায় ভিটামিন এ কমেছে ৫৭ শতাংশ। এছাড়া ১৯৬০-এর দশক থেকে গমে খনিজ উপাদান কমেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
তবে একদল গবেষকের মতে, সমাধানের উপায় হতে পারে পুনরুজ্জীবিত কৃষি বা রিজেনারেটিভ অ্যাগ্রিকালচার। ইউনিভার্সিটি অব লিংকনের সহযোগিতায় ফ্রান্সেস্কা বার্কিক ও তার দলের গবেষণায় দেখা গেছে, পুনরুজ্জীবিত খামারের শাকের আয়রন সাধারণ খামারের চেয়ে ২২ গুণ বেশি, শুকনা মটরের সেলেনিয়াম ৮ গুণ বেশি এবং গাজরে ফোলেট প্রায় ২০ হাজার গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। অতিরিক্ত রাসায়নিক, কীটনাশক ও জমি চাষের ফলে মাটির অণুজীব নষ্ট হয়ে যায়, যা মাটি থেকে পুষ্টি গ্রহণে ভূমিকা রাখে।
মার্কিন ভূতত্ত্ববিদ ড. ডেভিড মন্টগোমেরির মতে, ঐতিহ্যগত কৃষি মাটির যে অণুজীবদের কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, পুনরুজ্জীবিত কৃষি পদ্ধতি আবার তাদের কাজে ফিরিয়ে আনছে।
তবে এই দাবির বিপরীতে কিছু সীমাবদ্ধতা ও সমালোচনাও রয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, কিছু খাদ্যে খনিজ উপাদান বেশি থাকলেও সার্বিক পুষ্টির পার্থক্য অতটা উল্লেখযোগ্য নয়। তাছাড়া এতে শ্রম বেশি লাগে এবং খরচ বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য কমে যেতে পারে।
ড. নাহিদ আলির মতে, স্থায়িত্বশীলতার কথা শুনে কম খেয়ে পুষ্টিহীনতায় ভোগার ঝুঁকিও তৈরি হয়। পাশাপাশি অধ্যাপক কেন গিলারসহ কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন, এই পদ্ধতিতে ৮৩০ কোটি মানুষের খাদ্যচাহিদা মেটানো অসম্ভব।
তবে গবেষক বার্কিক ও মন্টগোমেরি আশা ছাড়ছেন না। তাদের মতে, মাটির স্বাস্থ্যকে কৃষির মূল ভিত্তি ধরে এগোলে পরিবেশ ও পুষ্টি দুটিই রক্ষা করা সম্ভব।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

একটি পুরো দেশের চেয়েও বড় বিশ্বের এই বৃহত্তম বিমানবন্দর
প্রেমিকার জন্য স্পেনের রাজকন্যাকে কি প্রত্যাখ্যান করেছেন গাভি





