গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় মতামতের সময় ১ দিন, ‘প্রহসন’ বলছে টিআইবি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
২৯ জুলাই ২০২৬, ২০:৫২আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২০:৫২

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য মাত্র একদিন সময় নির্ধারণকে ‘প্রহসনমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একইসঙ্গে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতার অপব্যবহারের যে প্রবণতা দেখা গেছে, এই খসড়ার ক্ষেত্রেও তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। গুমের ভুক্তভোগী, তাদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মতামত দেওয়ার সময়সীমা কমপক্ষে দুই সপ্তাহ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় খসড়াটি পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

বুধবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন একটি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি সময়সীমা নির্ধারণ সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত ২৭ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত আহ্বান করা হয়। মাত্র একদিনের এই সময়সীমা কোনোভাবেই অর্থবহ জনপরামর্শের সুযোগ সৃষ্টি করে না।

টিআইবি বলেছে, এর আগেও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি লঙ্ঘন করে সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে দ্রুত পাস করা হয়েছে। একই ধরনের প্রক্রিয়ায় গুমবিষয়ক আইনও পাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়া আইনে গুমকে স্বতন্ত্র ও চলমান ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্দেশদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার মতো ইতিবাচক বিধান রয়েছে। তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনের ক্ষেত্রে মতামত দেওয়ার জন্য মাত্র একদিন সময় নির্ধারণ করায় ভুক্তভোগী ও অংশীজনদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, খসড়া আইনে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অথচ অতীতে সংঘটিত অধিকাংশ গুমের ঘটনায় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এ বাস্তবতায় পুলিশের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুম তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ছিল। কিন্তু নতুন খসড়ায় সেই বিধান বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়।

খসড়া আইনের ১৫ ধারার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় একজন অধস্তন কর্মকর্তার পক্ষে নিজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। একইসঙ্গে, প্রমাণ সন্তোষজনক না হলে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে কার্যধারা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান অভিযুক্তদের সুরক্ষার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

/এসএনকে/এম/
সম্পর্কিত
মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে গুম-হত্যা: ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিলো ট্রাইব্যুনাল
গুম-হত্যার অভিযোগআসাদুজ্জামান-ইশতিয়াকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট
রাজনৈতিক কারণে ৭ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়নি দাবি মাহদী আমিনের, দ্বিমত টিআইবির
সর্বশেষ খবর
২১৬ দিন পর সচল যমুনা সার কারখানা
২১৬ দিন পর সচল যমুনা সার কারখানা
নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী কারা?
নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, সফরসঙ্গী কারা?
রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর
রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর
টিভিতে আজকের খেলা (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
সর্বাধিক পঠিত
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা
অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করলো, জানিয়েছে পুলিশ
অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করলো, জানিয়েছে পুলিশ
আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার পর থানার ওসিকে প্রত্যাহার
আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার পর থানার ওসিকে প্রত্যাহার
অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে দাবি পুলিশের
অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে দাবি পুলিশের
১১ দলের লংমার্চ নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের পেজে স্ট্যাটাস, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
১১ দলের লংমার্চ নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের পেজে স্ট্যাটাস, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার