৫৭ জনের মৃত্যুর পর সেউতা সফরে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী, বললেন ‘সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮

ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় সীমান্ত প্রাচীর ভেঙে ও সাঁতরে প্রবেশ করতে গিয়ে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬০ হাজারেরও বেশি মরক্কো ও আফ্রিকান অভিবাসী অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশ করেছে। এই বিশাল অনুপ্রবেশের সময়ে সমুদ্রের পানিতে ডুবে এবং সীমান্তে ধাক্কাধাক্কিতে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৫৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। খবর এএফপি, এপি, রয়টার্স। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় স্পেন সরকার ৫৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সিভিল গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রপথের তারকাঁটা পেরিয়ে তারাজাল সৈকতে আসার সময় তাড়াহুড়ো এবং পদপিষ্টের কারণে অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি ভিত্তিতে সেউতা সফর করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এই গণ-অনুপ্রবেশকে স্পেনের ‘সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরণের রাষ্ট্রীয় শক্তি মোতায়েন করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসীকে দ্রুততার সঙ্গে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।” 

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং দ্রুত মানবপাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপের নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্রান্স ইতোমধ্যে স্পেনের সঙ্গে তাদের সীমান্তে কড়া নজরদারি ও বর্ডার ফোর্স মোতায়েন করেছে। অপরদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সীমান্ত চুক্তি সাময়িক স্থগিতের হুমকি দিয়েছেন।

সেউতার আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি আইনি রায়কে ঘিরে মানবপাচারকারী চক্র বা মাফিয়ারা ভুল ও স্বার্থান্বেষী ব্যাখ্যা ছড়ায়। তারা রটায় যে, সমুদ্রপথে এলে আর কাউকে ফেরত পাঠানো যাবে না। এই গুঞ্জন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার তরুণ ও পরিবার একযোগে সীমান্ত থেকে সাঁতরে ও হেঁটে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করে।

বর্তমানে সেউতার রাস্তায় হাজার হাজার শরণার্থী ও অভিভাবকহীন শিশুরা অবস্থান করছে, যাদের সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা দল।

/এসটি/ 
সম্পর্কিত
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৩৫ বছর পর শেষ হলো পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন
পাকিস্তান হয়ে আফগানদের দেশে ফেরত পাঠাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন
সর্বশেষ খবর
ঢাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে জার্সি বদল, এমনকি জড়িয়ে ধরতেও রাজি ভারত
ঢাকায় পাকিস্তানের সঙ্গে জার্সি বদল, এমনকি জড়িয়ে ধরতেও রাজি ভারত
টেস্ট ‘নেগেটিভ’ আসার পরও কি ডেঙ্গু হতে পারে?
টেস্ট ‘নেগেটিভ’ আসার পরও কি ডেঙ্গু হতে পারে?
ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, দেওয়া হলো কারাদণ্ড
ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, দেওয়া হলো কারাদণ্ড
তাহসিফের সেই বান্ধবী ‘অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির’, শুনানিতে আরও যা বললো রাষ্ট্রপক্ষ
তাহসিফের সেই বান্ধবী ‘অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির’, শুনানিতে আরও যা বললো রাষ্ট্রপক্ষ
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
চাঁদাবাজির মামলায় চার্জশিট দাখিল ‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে কী করতে হবে, জনগণকে জানিয়ে দিলো ইরান
যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে কী করতে হবে, জনগণকে জানিয়ে দিলো ইরান
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত
ধানক্ষেতে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সেখানেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা
ধানক্ষেতে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সেখানেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা