প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে নিজের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় সংযম ও ক্ষমার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করা করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘গালিগালাজ বা অপমান কোনও সমাধান হতে পারে না’ এবং যারা বিপথগামী হয়েছে তাদের শাস্তি দেওয়ার বদলে সঠিক পথ দেখানোর জন্য সমাজের প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে তা দেশের মানুষ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যার সভ্য সমাজে কোনও স্থান নেই। আমাকে অপমান করা হয়েছে, এমনকি আমার মরহুম মাকেও অপমান করা হয়েছে।’
প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গালাগাল ব্যবহারের জেরে বিক্ষোভকারীদের একজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কয়েকদিন পর তিনি এ মন্তব্য করেন।
অভিযোগ অনুসারে, গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ পরিচালিত বিক্ষোভ চলাকালে ২৫ বছর বয়সী এক নারী বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এত কিছুর পরও প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তিনি রাগ বা প্রতিশোধ নেওয়াকে কোনও উত্তর বলে মনে করেন না। বরং তিনি বিক্ষোভকারীদের ভুল থেকে শেখার ক্ষমতাসম্পন্ন তরুণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘অপমান ও গালিগালাজ কখনও কোনও সমস্যার সমাধান করে না। আসুন বিপথগামীদের পথ দেখাই। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করি। চলুন ভারতের জন্য কাজ করি।’
ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় ভুল হতেই পারে, আর শৈশব বা কৈশোর সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগও দেয়। তরুণ হওয়ার অর্থই তো তাই। সমাজে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু এখন এই সন্তানদের কাছে টেনে নেওয়া ও তাদের সঠিক পথ দেখানোর সময়। তারা ভুল পথে পরিচালিত শিশু। তাদের পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে টানাহেঁচড়া করা বা হয়রানি করা পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন আনবে না।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি অভিযুক্তদের ক্ষমা করতে চান এবং সমাজকেও একই কাজ করার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। সমাজকেও অনুরোধ করবো আমার কথা মেনে নেওয়ার জন্য। গালিগালাজে কখনও ফল পাওয়া যায় না। যারা পথ হারিয়েছে তাদের পথ দেখাই চলুন। আমরা একসঙ্গে কাজ করি, ভারতের জন্য কাজ করি।’
হৈচৈ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, জনমনে অসন্তোষ তৈরি এবং মানহানির ধারায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) অনুচ্ছেদের অধীনে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা হয়েছে হয়েছে। তবে অপরাধের স্থান নয়ডার বাইরে হওয়া সত্ত্বেও মামলাটি গ্রহণ করা হয় এবং পরে তদন্তের জন্য এটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিজনক হয়ে থাকতে পারে, তবে বক্তব্য বা শব্দের জন্য প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা উচিত নয়।’
দাস বলেন, ‘অবশ্যই যদি কোনও অপমানজনক বা মানহানিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করতে পারেন। তবে প্রতিবাদকারীদের দমনে পুলিশি বা ফৌজদারি ব্যবস্থার প্রয়োগ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কেবল আপত্তিজনক ভাষার জন্য কাউকে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।’









