যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে রিপাবলিকানরা হেরে গেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে খুব একটা ভ্রুক্ষেপ করছেন না। এমনকি তার পরিবার, সম্পদ ও নীতির ওপর ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য সীমাহীন তদন্ত নিয়ে তিনি একপ্রকার উদাসীন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা। কারণ ট্রাম্প জানেন, রিপাবলিকানদের মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রেখে শেষ দুই বছরে তিনি আরও শক্তিশালী হয়েই উঠবেন।
নির্বাচনের ফল যাই হোক, ট্রাম্পের হাতে থাকবে আরও বেশি ট্রাম্পপন্থি এক কংগ্রেস। তিনি আইনি ব্যবস্থার চেয়ে প্রেসিডেন্সির ক্ষমতা ব্যবহারেই বেশি আগ্রহী এবং অনুসারীদের রক্ষায় ক্ষমার অধিকার ব্যবহার করবেন বলে উপদেষ্টারা জানিয়েছেন। সিনেটে তার সমালোচকরা অবসর বা পরাজয়ের মাধ্যমে বিদায় নিচ্ছেন এবং নতুন আসা সদস্যরা হবেন পুরোপুরি ট্রাম্প অনুরাগী। সিনেট ধরে রাখলে মাইক লি, রন জনসন ও রিক স্কটের মতো অনুগতরা কমিটির চেয়ারপারসন হবেন। একই অবস্থা প্রতিনিধি পরিষদেও, হাতে গোনা কজন সমালোচক বিদায় নিয়ে সেখানে ট্রাম্পের অনুসারীরা স্থান দখল করবেন।
অন্য কাউকে মঞ্চ ছেড়ে দেওয়া বা উত্তরসূরি তৈরি করার মানুষ ট্রাম্প নন। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মনোনয়ন এবং প্রচারণার দিকনির্দেশনা তিনি নিজেই ঠিক করবেন। তিনি ভ্যান্স-রুবিও জুটিকে টিকিট হিসেবে চান এবং তার মতামত পরিবর্তন না হলে এটিই হতে যাচ্ছে। অনুদান বা তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তিনি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করবেন। এক উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, ট্রাম্প পছন্দ করেন যখন তিনি কাউকে ‘টাকা দাও’ বলেন, তারা টাকা দিয়ে দেন।
অপর এক উপদেষ্টার মতে, আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যতটা শক্তিশালী, আপনিও ততটাই শক্তিশালী।
নভেম্বর পরবর্তী সময়ে কয়েকটি নাটকীয়তা লক্ষণীয় হবে। ট্রাম্প শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ২০২৮ সালের নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জল্পনা জিইয়ে রাখবেন, তবে এটি হবে শুধুই পিআর কৌশল এবং ভ্যান্স ও রুবিওকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়।
অন্যদিকে ২০২৮ সালে সম্ভাব্য বাইরের প্রতিযোগিতা হিসেবে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস, টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এবং মিসৌরির সিনেটর জোশ হাউলিকে নজরে রাখছে হোয়াইট হাউস। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কংগ্রেশনাল তদারকি নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংঘাত তৈরি হতে পারে ট্রাম্প যদি তার পুরো প্রশাসন, পরিবার ও বন্ধুদের কংগ্রেসকে সরাসরি উপেক্ষা করার নির্দেশ দেন।
সূত্র: অ্যাক্সিওস

কিশোরদের দিয়ে খুন করিয়ে ইউরোপ কাঁপাচ্ছে যে চক্র
ইরানি নেতৃত্বে কি ফাটল ধরেছে






