রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনে মস্কোর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার অভ্যন্তরে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী একক হামলা। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত নিজনেকামস্ক শহরে এই হামলার বিষয়ে কিয়েভ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, নিজনেকামস্কের তানেভো তেল শোধনাগারে আঘাত হানা হয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফায়ারপয়েন্ট জানিয়েছে, এই আক্রমণে তাদের উৎপাদিত এফপি-ওয়ান ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাত থেকে শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা ধরে এই হামলা চলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ও বিবিসির যাচাইকৃত ছবিতে দেখা গেছে, দিনের আলোয় আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও আগুনের শিখা উঠছে এবং নেপথ্যে বিমান হামলার সাইরেন বাজছে।
হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও তথ্য না পাওয়া গেলেও, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে অর্থ ও রসদ জোগায় এমন কেন্দ্রগুলোতে সম্প্রতি হামলা জোরদার করেছে কিয়েভ।
মস্কো নিশ্চিত করেছে যে শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। রাশিয়ার তদন্তকারী কমিটি জানিয়েছে, সেখানে সাধারণ বেসামরিক মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের কোনও সামরিক অভিযানে সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে বিবিসি এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
তাতারস্তানের প্রধান রুস্তম মিন্নিকানভ এই হামলার কথা নিশ্চিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১২ জুন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিজনেকামস্কের তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছিল। মস্কো জানিয়েছে, গত রাতে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ৪৫০টিরও বেশি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে।
কিয়েভ সম্প্রতি রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার হামলা চালাতে ক্রমেই সফল হচ্ছে, যেখানে প্রায়শই গুদাম বা জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং এতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের শহর ও আবাসিক কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত বড় ধরনের আকাশপথে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ হামলায় ২১ জন নিহত হন। এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রের কাছের শহর খারকিভে গত রাতে রাশিয়ার কামানের গোলাবর্ষণে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী চীনা ইউয়ান
চীনে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ডলফিনের আঘাত, ঘরছাড়া ১০ লাখ মানুষ
‘ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে, তবে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে হরমুজ খুলবে না ইরান’







