সিলেট নগরের সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত মিতালী আবাসিক এলাকায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারটি ঘটেছে লোডশেডিংয়ের সুযোগে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছিল। এ সুযোগে হত্যাকাণ্ড ঘটে। খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই-এর ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকালের দিকে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম বাবুল মিয়া (২৬)। ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টার মাথায় পাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়। বিকালে খুনে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এর আগে সকালে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। বাসার ভেতরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন- ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (২০)। গৃহকর্মী তাহমিনা নগরীরর জল্লারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফতাব মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ জানায়, সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই এলাকায় লোডশেডিং ছিল। তখনই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতদের বাসা ও পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে কোনও ফুটেজ ধরা পড়েনি। তবে পাশের এলাকার যে গলি দিয়ে খুনি পালিয়ে গিয়েছিল, সেখানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বাবুলকে শনাক্ত করে আটক করে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাদের গলা কেটে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। সে মিতালী আবাসিক এলাকার পাশের একটি কলোনিতে বসবাস করতো। ওখানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, ‘বাবুল মিয়া পেশায় রংমিস্ত্রি এবং একজন কসাই। গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। বুধবার সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাসায় প্রবেশ করে বাবুল। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। তাহমিনাকে হত্যার পর সেখানে সুরাইয়া বেগম ও আব্দুস সাত্তারকে দেখতে পেয়ে তাদেরও গলা কেটে হত্যা করে বাবুল। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার দম্পতি মিতালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও আওয়ামী লীগের একজন পুরোনো কর্মী হিসেবে মহল্লায় পরিচিত। তবে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে তাদের। দুজনই সপরিবারে লন্ডনে থাকেন। মিতালী আবাসিক এলাকা পুরোটা সিসি ক্যামেরা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। তাদের বাসায়ও ছিল নিজস্ব সিসি ক্যামেরা। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকায় মহল্লার ও বাসার সিসি ক্যামেরায় কিছুই ধরা পড়েনি।
পুলিশ বলছে, লোডশেডিংয়ের সুযোগে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। ওই এলাকায় লোডশেডিংয়ের প্রতি নজর রেখে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ওই ব্যক্তি।
হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘বাসার ওয়ারড্রব ও আলমারি খোলা ছিল। স্বর্ণসহ দামি জিনিস খোয়া গেছে। চুরি-ডাকাতির ঘটনা আছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্য কোনও কারণে হত্যা করা হয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিন জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন বাবুলকে আটক করেছে পুলিশ। বিকাল ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। এখন পর্যন্ত আমাদের মনে হচ্ছে বাবুলই একাই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এখনও ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।’

আবাসিক এলাকার এক ফ্ল্যাটে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যা







