চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে থাকা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলা কাটা মোবারকসহ’ চার জনের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও পুলিশের ওপর হামলার পৃথক দুই মামলায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন।
পুুলিশ জানিয়েছে, ‘গলাকাটা’ মোবারক চট্টগ্রামের বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদ বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তিনি ওই বাহিনীর অন্যতম শুটার হিসেবে পরিচিত।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অন্য তিন আসামি হলেন- ফটিকছড়ির কাঞ্চনগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার মো. লোকমানের ছেলে মুহাম্মদ মোবারক (৩৭), লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার বদিউল আলমের ছেলে মোহাম্মদ রাইহান (৪০), একই এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো. ফরিদ (৫০) এবং মৃত শমসু সওদাগরের ছেলে মো. নাছির (৫২)।
চট্টগ্রাম জেলা আদালতের কোর্ট পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও পুলিশের ওপর হামলার দুই মামলায় প্রত্যেক আসামির চার দিন করে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।’
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোবারকসহ চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিভিন্ন ধরনের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম জানিয়েছেন, অভিযানে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় তৈরি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মোবারক রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় গত ১৩ জুন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলার সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।









