সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে পরাস্ত করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি সংলগ্ন মোখা ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে হুথিদের আধিপত্য বাড়লেও, এই মুহূর্তে ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনও ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের জরুরি সভায় ইয়েমেন সরকারের দূত আবদুল্লাহ আল-সাদি অভিযোগ করেন, হুথিরা লোহিত সাগরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। তবে শনিবার আয়ারল্যান্ড সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হুথিরা আমাদের ফোন করে জানিয়েছে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না। তারা চায় না আমি তাদের পিছু নিই।
ট্রাম্প আরও বলেন, হুথিরা আন্তর্জাতিক নৌযানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে না, তবে কেবল একটি দেশের প্রতি তারা ক্ষুব্ধ, যার মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবকে ইঙ্গিত করেন।
সূত্রমতে, ট্রাম্প সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দুটি ফোনালাপে সামরিক উপদেষ্টাদের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে মার্কিন সহায়তার আশ্বাস দিলেও এই মুহূর্তে সরাসরি বিমান হামলা চালানোর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন তাদের মূল জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে মনোযোগী, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার দায়িত্ব তারা আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপরই ছেড়ে দিতে চায়।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুসারে, হুথিদের এই অভিযানে সহায়তা করতে এবং সংঘাত বাড়াতে বর্তমানে ইয়েমেনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ১০০ জনেরও বেশি সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। কিন্তু এই সাফল্য হুথিদের জন্য স্থায়ী কোনও কৌশলগত মোড় হবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। মোখা শহরটির কোনও বড় বন্দর অবকাঠামো না থাকলেও এটি সৌদি সমর্থিত বাহিনীর জন্য একটি বড় বাফার জোন ও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছিল, যা হাতছাড়া হওয়া রিয়াদের জন্য বড় ধাক্কা।
এআরকে গ্রুপের গবেষক ও ইয়েমেন সংঘাত বিশেষজ্ঞ হান্নাহ পোর্টার জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত হুথিরা আন্তর্জাতিক নৌযান লক্ষ্য করে হামলা না চালাচ্ছে, তারা হয়তো পার পেয়ে যাবে; কারণ যুক্তরাষ্ট্র এতে জড়াতে চাইছে না।
এদিকে হুথি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপদ রয়েছে। ইয়েমেনিদের দিক থেকে এটি কোনও হুমকির মুখে নেই।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব তাদের নিজস্ব বিমান বাহিনীকে ব্যবহার করতে পারলেও অতীতে তাদের সাত বছরের বিমান অভিযান হুথিদের দমনে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ উভয়পক্ষই লড়াইটিকে কেবল ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত হিসেবে বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
সূত্র: আল-মনিটর

কিশোর কুমারের গান গেয়ে মোদির নৈশভোজ মাতালেন মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী
পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, নোটিশ পেলো আরও ১০০







