২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সাভারে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে এক মাস সময় চান প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, শহিদুল ইসলাম সরদার, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।
এ মামলায় কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পলাতক ১৩ আসামি
মামলার পলাতক আসামিরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহাম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।
এর আগে গত ২৬ জুলাই ১৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ
নিহত আসহাবুল ইয়ামিন এমআইএসটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। একপর্যায়ে ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয়। এতে তার শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আরও অভিযোগ, পরে ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপরে ফেলে রেখে আন্দোলনকারীদের ভয় দেখাতে গাড়িটি এদিক-ওদিক চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে প্রায় মৃত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্যকে ইয়ামিনের পায়ে গুলি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
তবে ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত মনে করে পায়ে গুলি না করে তাকে রাস্তার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে টেনে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। তখনও ইয়ামিনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।









