ধর্ষণের অভিযোগের পর ভারতের পাঞ্জাবের লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। শনিবার রাতে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী মেয়েদের আবাসিক হলের কাছে জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনও প্রমাণ বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এসব দাবিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা প্রথমে মেয়েদের আবাসিক হলের কাছে জড়ো হন। পরে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ঢুকে জানালার কাচ, ইট ও ফুলের টব ভাঙচুর করেন এবং কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি স্থাপনায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের কৃষি বিভাগের কাছে চার-পাঁচ দিন আগে এক নারী আত্মহত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার একটি পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তার মৃত্যুর সঙ্গে ধর্ষণের অভিযোগের কোনও সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনও অভিযোগ পুলিশ পায়নি।
কাপুরথালা জেলার পুলিশ সুপার গৌরব তুরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আত্মহত্যার ভিডিওটি পুরোনো এবং ধারণা করা হচ্ছে, এটি ১১ আগস্টের। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আবার কেউ বলছেন, ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এসব দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগও জমা পড়েনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে এক কর্মীকেও ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ এ অভিযোগও নিশ্চিত করেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় মহাসড়ক অবরোধ করা হলেও পরে তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এলপিইউর রেজিস্ট্রার ড. মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অসামাজিক উপাদান মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ছড়িয়ে পড়া গুজবের কোনও সত্যতা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব দাবিকে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম থেকে দেওয়া তথ্য অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
৬০ বছর রাজনীতি করেও বিজেপির প্রতি কেন অসন্তুষ্ট অমরিন্দর সিং
টানা বৃষ্টির পর ব্যাংককে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি