কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে দেশটির ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটনকে নতুন এআই জার বা প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ন এক্সপ্রেস।
এআই জার হিসেবে ক্লেটন মূলত হোয়াইট হাউসের একটি নতুন টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন, যার নাম হবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’। ট্রাম্প এআইয়ের পরিবর্তে সুপার ইন্টেলিজেন্স বা এসআই শব্দটি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।
ডব্লিউএসজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রুপ ১২০ দিন সময় পাবে। এ সময়ের মধ্যে তারা এআইয়ের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করে প্রতিবেদন দেবে। নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে মার্কিন সরকারের দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়েও সুপারিশ করবে তারা।
ক্লেটন যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স। তিনি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্সের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। স্যাক্স চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো জারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অল-ইন পডকাস্টের সহ-উপস্থাপক স্যাক্স বর্তমানে প্রেসিডেন্টের কাউন্সিল অব অ্যাডভাইজার্স অন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সহ-সভাপতি। প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবননীতি নিয়ে বাইরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এই পরামর্শক কমিটি।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এআই শিল্পের নেতারা বৈঠক করেন। সেখানে তারা স্বেচ্ছাভিত্তিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের একটি চুক্তিতে সই করেন, যেটিকে ট্রাম্প নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করেছেন। এর কিছুদিন পরই ক্লেটনের নিয়োগের খবর এল।
তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ এআই এজেন্টদের হ্যাকিংয়ের একের পর এক ঘটনা এবং এআই গবেষকদের সর্বনাশের সতর্কবার্তায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। এমন এক সংকটময় সময়ে এআই শিল্পের জন্য এ নিয়োগ এল। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের মতো শিল্পনেতারা অত্যাধুনিক এআই মডেলের জন্য ফেডারেল সুরক্ষা কাঠামোর পক্ষে কথা বলেছেন। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন।
ডব্লিউএসজেকে ক্লেটন বলেন, প্রেসিডেন্ট চেয়েছেন এমন একটি গ্রুপ গঠন করা হোক, যা নিশ্চিত করবে, আমরা সুপার ইন্টেলিজেন্সে নেতৃত্বে থাকব এবং আমেরিকান জনগণের স্বার্থ সবার আগে থাকবে।
ওয়াল্টার জে ক্লেটন পেনসিলভানিয়ায় বেড়ে উঠেছেন। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে তিনি প্রকৌশল ও আইনে ডিগ্রি নিয়েছেন। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করেছেন। মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন এবং মূলধন সংগ্রহ-সংক্রান্ত লেনদেনে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু।
১৯৯২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি আইন প্রতিষ্ঠান সুলিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েলে কাজ করেন এবং পার্টনার হন। ২০১৬ সালে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান পদের জন্য ক্লেটনের নাম সুপারিশ করেন আইন প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন সিনিয়র চেয়ারম্যান জোসেফ শেনকার। তিনি নামটি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের কাছে সুপারিশ করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কুশনারের আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে কুশনারের পারিবারিক ব্যবসার প্রতিনিধিত্ব করে আসছিল।
২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির আর্থিক বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান ছিলেন। খবরে বলা হয়েছে, ক্লেটন ট্রাম্পের গলফ খেলার সঙ্গীও। ২০২০ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ ভ্রমণের সময়ই তিনি নিউইয়র্কের দক্ষিণ জেলা (এসডিএনওয়াই) মার্কিন জেলা আদালতের পরবর্তী অ্যাটর্নি হওয়ার আগ্রহের কথা জানান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন সিনেট ক্লেটনকে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স হিসেবে নিশ্চিত করে। এই পদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকি করেন।
কিয়েভ থেকে কূটনীতিকদের সরে যেতে বললো মস্কো, বড় হামলার হুঁশিয়ারি