আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে জাহাজ নির্মাণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিদেশি ক্রেতাদের কাজের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পসংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনা এবং সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু। এতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের ক্রয়াদেশ পেতে হলে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সক্ষমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। জাহাজ নির্মাণে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর নীতিমালা ও মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে দেশের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো আরও সহজ করতে হবে।
তিনি জানান, নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। এ উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও (বিডা) যুক্ত রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ প্রয়োগ ও পরিপালনও নিশ্চিত করতে হবে। যেসব নিয়ম বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন, সেগুলো একসময় কার্যকারিতা হারায়। এ জন্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোকেও কাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
সভায় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অর্থায়ন ও আটকে থাকা ঋণের জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পুরোনো ঋণের জটিলতায় দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে বর্তমান সংকট কাটিয়ে খাতটিকে এগিয়ে নেওয়ার পথ খুঁজতে হবে। উদ্যোক্তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জাহাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইয়ার্ড আধুনিকায়ন, পরিবেশগত মান পরিপালন এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রাম থেকেই প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও ফাইল অনুমোদনের ব্যবস্থা করার বিষয়ে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু সভায় ‘ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি’ (টিএসডিএফ) দ্রুত স্থাপনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, টিএসডিএফ না থাকায় ইউরোপীয় জাহাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে দ্বিধা করছে এবং বিকল্প গন্তব্য বেছে নিচ্ছে। এতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় জাহাজে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান থাকে। এসব জাহাজ আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় বর্জ্য শোধন, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশগত মান নিশ্চিত করে শিল্পটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করতে টিএসডিএফ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
দেশের আবাসন ও রি-রোলিং শিল্পে কাঁচামাল ও স্ক্র্যাপের চাহিদার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন পরিপালন ও শিল্পের কার্যক্রম সচল রাখার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় কার্যপত্র উপস্থাপন করেন শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান। তিনি জানান, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম গতিশীল করতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ শুরু করেছে। হংকং কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রিন ইয়ার্ড নির্মাণের নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়েও কাজ চলছে।
ছাড়পত্র পেতে ৪৫ থেকে ৬০ দিনের বিলম্ব এড়াতে চট্টগ্রাম থেকেই সংশ্লিষ্ট ফাইল অনুমোদনের ব্যবস্থা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সময় কমানো এবং শিল্পের কার্যক্রম সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ খাতকে পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হংকং কনভেনশন বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি বা অস্পষ্টতা থাকলে জাতীয় সনদের মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক সচিব লিয়াকত আলী মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এভিয়েশন হাব গড়তে লুফথানসার বিনিয়োগ চায় সরকার