ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভোটার নিবন্ধনের ‘ফর্ম ৬’-এ নির্বাচনি কমিশনের করা কোনও সংশোধনী অনুমোদন না দেওয়ার কথা জানানোর পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের দাবি, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে যে সিইসি বিজেপিকে সুবিধা দিতে নিজের পদের অপব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সোমবার জানান, নির্বাচন কমিশন বিধিবদ্ধ ফর্ম সংশোধন না করেই বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) সংক্রান্ত একটি নতুন অংশ যুক্ত করেছিল, যা সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন দেয়নি।
এই পর্যবেক্ষণের পর লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার বেআইনি ও একতরফাভাবে ফর্ম ৬ পরিবর্তন করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিজেপিকে সুবিধা দিতে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হলো। এক্স বার্তায় তিনি বলেন, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার অন্যান্য কমিশনারদের মতামত পাশ কাটিয়ে বিজেপির জন্য বেআইনি কাজ করেছেন। তিনি সিইসির পদত্যাগের দাবি জানান। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই বক্তব্যের পর দেশের প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের ভরসা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ ছাড়া সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই এবং সিপিআই (এম)-এর নেতারাও নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
বিরোধীদের বক্তব্যের জবাবে বিজেপির মুখপাত্র সংবিত পাত্র রাহুল গান্ধীর পোস্টকে ‘মিথ্যায় পূর্ণ’ ও দেশে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রধান বিচারপতি ফর্ম ৬-কে বেআইনি বলেননি। সর্বোচ্চ আদালত নোটিশ জারি করাকে তিনি ‘গণতন্ত্রের চর্চা’ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে। এক্স পোস্টে কমিশন জানায়, ২০২৫ সালের জুনে এসআইআর সংক্রান্ত যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রাখেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরায়েল: সিআইএ’র গোপন প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, কেন এটি ট্রাম্পের জন্য বড় পরীক্ষা