জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ বছরের পুরোনো কারিকুলাম ও সিলেবাস পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪ হাজার ২০০টি কোর্সের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০০টি কোর্স পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধন করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৩ হাজার ৮০০টি কোর্সের সংস্কারের কাজও চলছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) খুলনার সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খুলনা অঞ্চলের অধিভুক্ত কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং কলেজগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বকুল। সম্মানিত অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবার শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষার পরিবেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কয়েকটি কলেজ ভালো করলেই শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়ন হবে না। বিএল কলেজ বা বিএম কলেজের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলোর শিক্ষার মানও উন্নত করতে হবে। অধিভুক্ত প্রতিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে দক্ষ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা কঠিন হবে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, গত দেড় দশকে শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনীতির প্রভাব যেভাবে বেড়েছে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল কাজ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে তোলা। সেই জায়গায় ফিরে যেতে হবে।
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম ঢেলে সাজানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব যেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদেরও সেদিকে যেতে হবে। শুধু প্রচলিত শিক্ষার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা দিতে হবে, যা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও কাজে লাগবে।’
এ ক্ষেত্রে হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন উপাচার্য।
খুলনা অঞ্চলের ৩৩৮টি কলেজকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে কোনও প্রতিষ্ঠানকে নয়, অধিভুক্ত সব কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করতে চায়। কলেজগুলোর বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় পাশে থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ রফিকুল ইসলাম বকুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা কোনওভাবেই ক্যাম্পাসের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে দেওয়া যাবে না। আদর্শ, নীতি ও জ্ঞান দিয়ে মতপার্থক্য ও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। কলেজের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে।
শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে রফিকুল ইসলাম বকুল বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান দেখানোর যে সংস্কৃতি ছিল, তা ফিরিয়ে আনতে হবে। সমাজে মূল্যবোধের যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষকদেরই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম, অবকাঠামো, শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি কলেজ পর্যায়ে আরও সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
উপাচার্য কলেজগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন এবং এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, সরকারি ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষসহ খুলনা অঞ্চলের ৩৩৮টি কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ