ইয়েমেনের কট্টরপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট। দেশটির আইনপ্রণেতা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় তীব্র হওয়া আঞ্চলিক সংঘাতের আরও কাছে চলে এলো কায়রো।
রিয়াদ যদি হুথিদের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষায় সহায়তা চায়, তবে যেন সামরিক সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের অনুমোদন চেয়েছিলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। হুথিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা কেবল সৌদির ভূখণ্ডের জন্যই হুমকি তৈরি করেনি, বরং লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালিকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। এই রুটটি মিসরের সুয়েজ খালে প্রবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় বিমান চলাচল এবং তেল রফতানি ব্যাহত হওয়ার পর এই অনুমোদন দিলো কায়রো। তবে মিসর ইরানের নেতৃত্বাধীন আক্রমণ ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানালেও সরাসরি সংগ্রামে নামেনি। সিসি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মিসরের যেকোনও সহায়তা কেবল সৌদি ভূখণ্ড ও সীমানা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; ইয়েমেনের ভেতরে গিয়ে হামলা চালানো তাদের উদ্দেশ্য নয়।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে গত বুধবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদ রিয়াদ সফর করেন। সফর শেষে আবদেলাতি জানান, কূটনৈতিক উপায়ে ইয়েমেন সংঘাত সমাধানের প্রতিটি সুযোগ বাস্তবায়নে কায়রো সমর্থন জানায়।
সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ায় লোহিত সাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় দুই দেশ নিরাপত্তা আলোচনা জোরদার করেছে। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা করতে কায়রো সফর করেছিলেন। মিসর ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে আগস্টে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মিসরীয় সামরিক সক্ষমতা এবং লোহিত সাগরে এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া সৌদি আরব মিসরের এক বড় রাজনৈতিক ও আর্থিক অংশীদার। তবে ১৯৬০-এর দশকে ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া এবং ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর কোনও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক যুদ্ধ অভিযানে সেনা না পাঠানোর ইতিহাস মিসরকে কিছুটা সতর্ক রাখছে। মিসর কতটুকু সামরিক সহায়তা দেবে তা শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক চাওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোর চেষ্টার ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
বিজয়ের পর কি রাজনীতিতে নামছেন ধানুশ?
ইসরায়েলের ভাগ্যনির্ধারণী নির্বাচন: নেতানিয়াহুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কারা