আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে একটি বিতর্কিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা গণহাতাহাতিতে রূপ নিয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা সেখানে একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মেরেছেন। পুরো ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইম অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার অডিট চেম্বারের একজন সদস্য নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের সময় ঘটনাটি ঘটে। ক্ষমতাসীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টির সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধীদলীয় নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের এক আত্মীয়ের নির্বাচনের আগে করা একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে নারীদের সন্তুষ্ট করার জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করা হবে, এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে ছিল ওই মন্তব্য।
আর্মেনীয় সংবাদ সংস্থা আরমেনপ্রেসের বরাতে জানা গেছে, চাখোয়ান কারাপেতিয়ানকে মনে করিয়ে দেন, তার খালাতো-মামাতো-চাচাতো ভাই (কাজিন) এখনও ওই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি। বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়া ফ্যাকশনের নেতা কারাপেতিয়ান প্রথমে নিজের আসন থেকে জবাব দেন, পরে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। এতে শারীরিক সংঘর্ষ শুরু হয়।
মুখে মুখে বাগবিতণ্ডা পূর্ণমাত্রার লড়াইয়ে রূপ নেয়। আইনপ্রণেতারা ঘুষি ও লাথি ব্যবহার করেন। জানা গেছে, হাতাহাতি পার্লামেন্টের করিডরেও গড়ায়, যেখানে নিরাপত্তাকর্মী ও অন্য সংসদ সদস্যরা জড়িতদের আলাদা করতে হিমশিম খান। সংঘর্ষের সময় অশ্লীল ভাষাও শোনা যায়।
পার্লামেন্টের স্পিকার রুবেন রুবিনিয়ান পরে ঘটনার জন্য মূলত কারাপেতিয়ানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বিরতির সময় তিনি বিতর্কের ফুটেজ দেখেছেন এবং চাখোয়ানের বক্তব্যে কোনও আপত্তিকর মন্তব্য পাননি।
আরমেনপ্রেসের বরাতে রুবিনিয়ান বলেন, মি. কারাপেতিয়ান, আপনি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, আসন থেকে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তারপর উঠে দাঁড়িয়ে তারন চাখোয়ানকে আঘাত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও বলেন, হাতাহাতি শুরু হওয়ার পর বিরোধী দলের এমপি গার্নিক দাভতিয়ান চাখোয়ানকে একবার আঘাত করেন।
রুবিনিয়ান আরও জানান, পার্লামেন্টের ভেতরে কী ঘটছে তা জনগণ যেন দেখতে পারে, সে জন্য তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সরাসরি সম্প্রচার চালু রাখতে দিয়েছেন।
সংঘর্ষের পর পার্লামেন্ট ভবনে অ্যাম্বুলেন্স আসে। ইউএনএনের খবর অনুযায়ী, বিরোধী দলের এমপি আন্দ্রানিক গেভরগিয়ানের নাক থেকে রক্ত ঝরছিল এবং আরেক এমপি রুবেন মখিতারিয়ানের পোশাক ছিঁড়ে গেছে।
জাপানি নাটকে চীনবিরোধী মনোভাব ছড়ানোর অভিযোগ বেইজিংয়ের
ইসরায়েলে সরকার গঠনে এখন ‘কিং মেকার’ আরব দলগুলো