বাংলাদেশের জার্সিতে দেশের মাটিতে প্রথমবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অপেক্ষায় শমিত সোম। টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শিরোপাও জিততে চান এই মিডফিল্ডার। তবে তার কাছে বাড়তি রোমাঞ্চের জায়গা বাংলাদেশের সমর্থকদের সামনে খেলা। প্রায় এক বছর পর দেশের দর্শকদের সামনে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে আজ এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শমিত। সেখানে বলেছেন, ‘আমরা সবার জন্য জিততে চাই। এটা অনেক বড় টুর্নামেন্ট। এখানে কী প্রত্যাশা, তা আমি চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই বুঝতে পেরেছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাংলাদেশের মানুষের সামনে খেলতে আমরা রোমাঞ্চিত। প্রায় এক বছর পর বাংলাদেশের স্টেডিয়ামে খেলতে যাচ্ছি। সর্বশেষ যখন খেলেছিলাম, তখন ভারতকে হারিয়েছিলাম। আশা করি, সাফেও একই রকম ফল করতে পারব। পুরো বাংলাদেশের জন্য ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই।’
সাফের আগে বাংলাদেশ দল কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদকে না পাওয়া দলের জন্য বড় ধাক্কার। সতীর্থ রোনান সুলিভানের ছিটকে যাওয়াও হতাশ করেছে শমিতকে। তবে দলের অন্য খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখছেন তিনি।
রোনানের না থাকা প্রসঙ্গে শমিত বলেন, ‘খবরটা আমি পাঁচ-দশ মিনিট আগে শুনেছি। এটা সত্যিই খারাপ লাগার মতো বিষয়। সে ভালো খেলোয়াড়, ভালো তরুণ প্রতিভা। আমরা তাকে মিস করব। তবে আমাদের দলে আরও অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, আক্রমণে বিকল্পও রয়েছে। তাদের নিয়েই মানিয়ে নিতে হবে। আশা করি, ভবিষ্যতে সে আবার ফিরতে পারবে।’
হামজা ও ফারহানকে না পাওয়ার হতাশা থাকলেও বিকল্প খেলোয়াড়দের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখছেন শমিত। তার ভাষায়, ‘আমি এভাবে চিন্তা করি না। আমার দায়িত্ব হলো নিজের খেলাটা ভালোভাবে খেলা এবং দলকে সাহায্য করা। অবশ্যই আমরা হামজা ও ফারহানকে মিস করছি। তারা অনেক বড় মাপের খেলোয়াড়, দলকে সাহায্য করে। তবে আমাদের আরও খেলোয়াড় আছে, যাদের ওপর আমার আস্থা রয়েছে। তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারবে। হামজার মতো হয়তো হবে না, কারণ প্রত্যেকের খেলার ধরন আলাদা। তবে ভুটানের বিপক্ষে ভালো করার মতো আত্মবিশ্বাস আমাদের আছে।’
নিজের ফিটনেস নিয়েও কথা বলেছেন শমিত। গত চার-পাঁচ সপ্তাহ চোটের কারণে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার জন্য ক্লাবের হয়েও খেলতে পারেননি। তবে জাতীয় দলের অনুশীলনে ফিরতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছেন, ‘গত চার-পাঁচ সপ্তাহ আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। চোটের পর পুনর্বাসন করতে হয়েছে, ক্লাবের হয়ে খেলতে পারিনি। তবে যতটা সম্ভব প্রস্তুত হওয়ার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত বেশ ভালো অনুভব করছি। আজকের অনুশীলনেও সবকিছু ঠিকঠাক মনে হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য ফিটনেস বাড়ানো। ভুটান ম্যাচের আগে আরও দুই-তিন দিন সময় আছে। কোচ ও ফিটনেস কোচের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি, ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারব।’
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশাবাদী শমিত। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সবকিছু ভালো যাচ্ছে। আশা করি, আগামী তিন-চার দিনে নতুন করে কোনও সমস্যা হবে না। আমি বেশ ভালো অনুভব করছি এবং দলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’
সবশেষে বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে খেলার রোমাঞ্চের কথা জানিয়ে শমিত বলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশের সমর্থকরা চান আমরা সাফ জিতি। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দেশের মাঠে, স্টেডিয়ামে সমর্থকদের সামনে খেলতে পারা। তাদের সমর্থন আমাদের বাড়তি প্রেরণা দেবে। গত দুই-তিনটি আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দেশের বাইরে খেলেছি। সান মারিনোতে অনেক বাংলাদেশি সমর্থক ছিল, তবে এশিয়ান কাপে দেশের সমর্থন সেভাবে পাইনি। এবার পূর্ণ গ্যালারিতে বাংলাদেশের সমর্থকদের সামনে খেলাটা আমাদের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণার হবে।’