আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে কতটা যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, তা এবার জানালেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ভাঙা আঙুলে অস্ত্রোপচার না করিয়ে টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের প্রতিটি মিনিট মাঠে থাকলেও সেই চোটের ব্যথা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।
গত মে মাসে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে সাবেক ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে আঙুল ভেঙে ফেলেছিলেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী। এরপরও বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রতিটি মিনিট মাঠে ছিলেন। তবে তীব্র ব্যথার কারণে মাঝেমধ্যে খেই হারিয়ে ফেলতেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক কোচ মার্টিন তোকালি ও দলের চিকিৎসক দানি মার্তিনেসের সঙ্গে আলোচনা করে অস্ত্রোপচার না করানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার জন্য বাড়তি সুরক্ষাসহ বিশেষ গ্লাভস তৈরি করে দেয় স্পোর্টস ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস।
মার্টিনেজ জানান, অস্ত্রোপচার করালে তাকে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতো। ফলে বিশ্বকাপে খেলা হতো না। অস্ত্রোপচার করলে আঙুলটি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসত। কিন্তু এখন হাড় সরে যাওয়ায় সেটি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।
সাংবাদিক গাস্তোন এদুলের ইউটিউব চ্যানেলে নিজের সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন মার্টিনেজ। তিনি বলেন, ‘আমি তখন জম্বির মতো ডাইভ দিতাম। এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে উঠে যখন হাত মাটিতে রাখতাম, চোখে আকাশের তারা দেখতাম। প্রতি রাতে, রাত ১২টা পর্যন্ত কাঁদতাম। কারণ, আমার আঙুলটা রক্তে ফুলে যাওয়া সসেজের মতো হয়ে থাকত।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে এমন ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘জাতীয় দলের জন্য এমন ঝুঁকি নিতেই হয়। আবারও এমন পরিস্থিতি এলে আমি একই কাজ করব।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ হারায় তারা।
এদিকে ছয় বছর অ্যাস্টন ভিলায় কাটিয়ে চলতি গ্রীষ্মে চেলসিতে যোগ দেন মার্টিনেজ। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে দলে নিতে প্রস্তাব দিয়েছিল জুভেন্টাস। তবে সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত এগোয়নি। মার্টিনেজ জানিয়েছেন, আঙুলের চোটই ছিল দলবদল না হওয়ার কারণ।
তিনি বলেন, ‘ওরা বলেছিল, এই অবস্থায় আমার পক্ষে খেলা অসম্ভব, অস্ত্রোপচার করাতেই হবে। চেলসির এতে আপত্তি ছিল না... তবে কোনো একসময় তোমাকে অস্ত্রোপচার করাতেই হবে।’
ক্লাবের অবস্থান সম্পর্কে অবগত এক সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, অস্ত্রোপচার করানোকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারার জন্য গোলরক্ষকের অস্ত্রোপচার জরুরি নয় বলেও মনে করছে ক্লাবটি। সম্পর্কের স্বার্থে সূত্রটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে অবশ্য অন্য চোটের কারণে মাঠের বাইরে মার্টিনেজ। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে এভারটনের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে জ্যারাড ব্র্যান্থওয়েটের সঙ্গে সংঘর্ষে তার চোয়াল ভেঙে যায়। কোচ জাবি আলোনসো জানিয়েছিলেন, কয়েক সপ্তাহের জন্য তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী এই গোলরক্ষক।
মার্টিনেজের মতে, নতুন এই চোটের ব্যথা বিশ্বকাপের সময় আঙুলের যন্ত্রণার ধারেকাছেও নয়।