ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে দলটির সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিনেট আসনে জয় পেয়েছে বিরোধী দল। চূড়ান্ত ফলাফলে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর রাজনৈতিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি এবং সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে চাপে পড়বেন ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাধার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বাজেট, সরকারি ব্যয়, অভিবাসননীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা ও প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার অধিকার বহাল থাকবে। ফলে বিরোধী দলের পক্ষে প্রেসিডেন্টের সব নীতি আটকে দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়বে।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের মুখে পড়তে পারে হোয়াইট হাউস

কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে। প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ, কর্মকর্তাদের ভূমিকা, অভিবাসন কার্যক্রম এবং ট্রাম্পের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসনকে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে। এমনকি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।

তবে অভিশংসন মানেই প্রেসিডেন্টের পদ হারানো নয়। প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলেও প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরাতে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে রাজনৈতিকভাবে অভিশংসন প্রক্রিয়া ট্রাম্পের জন্য বড় চাপ তৈরি করলেও এর মাধ্যমে তাঁকে পদচ্যুত করা সহজ নয়।

রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয় হলে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা বাড়তে পারে। দলের নেতাদের কেউ কেউ নির্বাচনী বিপর্যয়ের দায় তাঁর নীতি ও প্রচারকৌশলের ওপর চাপাতে পারেন। বিশেষ করে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, শুল্কনীতি ও অভিবাসন ইস্যুতে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

এপি বলছে, নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি রিপাবলিকান পার্টির পরবর্তী নেতৃত্বের সমীকরণেও প্রভাব ফেলবে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে।

২০২৮ সালের নির্বাচনে কী প্রভাব পড়বে

ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের চূড়ান্ত নির্ধারক নয়। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে দলের ভেতরে তাঁর বিরোধীরা শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁকে দলের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারেন।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টিতে নতুন নেতৃত্বের উত্থান, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে ট্রাম্প নিজে সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা

নির্বাচনের দিন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা হুমকি, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটে। তবে এসব ঘটনার মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে ভোটগ্রহণ অব্যাহত ছিল।

প্রাথমিক ফলাফলে জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য তাদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সব আসনের ফলাফল চূড়ান্ত না হওয়ায় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় ট্রাম্পকে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেবে না। তবে কংগ্রেসে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, আইন প্রণয়নে বাধা এবং ২০২৮ সালের নির্বাচন ঘিরে দলীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়কে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, এপি, দ্য গার্ডিয়ান

/আইএএম/
সম্পর্কিত
কেন হারলো ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা: ভ্যান্স বললেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে’
ডেমোক্র্যাটরা কি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে?
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
এনসিপি-জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর: গুঞ্জন নাকি সত্য?
এনসিপি-জামায়াত জোটে ভাঙনের সুর: গুঞ্জন নাকি সত্য?
কেন হারলো ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা: ভ্যান্স বললেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে’
কেন হারলো ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা: ভ্যান্স বললেন, ‘ইরান যুদ্ধের কারণে’
নিহত তৌফিককে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি নাহিদের
নিহত তৌফিককে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি নাহিদের
মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ১২ দেশে কর্মী যেতে ছাড়পত্র বন্ধ
মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ১২ দেশে কর্মী যেতে ছাড়পত্র বন্ধ
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
আগস্টের পর একের পর এক পদোন্নতি, এবার ডিআইজি হলেন আশরাফ আলী
আগস্টের পর একের পর এক পদোন্নতি, এবার ডিআইজি হলেন আশরাফ আলী
‘আমেরিকানরা বিরক্ত হলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো’: ট্রাম্প
‘আমেরিকানরা বিরক্ত হলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো’: ট্রাম্প
৭ নভেম্বর ঘিরে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি, থাকছে সাধারণ ছুটি
৭ নভেম্বর ঘিরে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি, থাকছে সাধারণ ছুটি
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘হাদিসের’ সঙ্গে তুলনা করা সেই কর্মকর্তা পদ হারালেন
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘হাদিসের’ সঙ্গে তুলনা করা সেই কর্মকর্তা পদ হারালেন