ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে কোনও দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। টানা রাজনৈতিক দরকষাকষির পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিবর্তে বিরোধী শিবিরের আইজেনকোটকেই প্রথম সুযোগ দিলেন প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসি।
রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন নির্বাচিত কেসেট (ইসরায়েলি সংসদ) সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর গাদি আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭টি এবং নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬টি পরামর্শ জমা পড়েছিল। এর ওপর ভিত্তি করেই প্রেসিডেন্ট হারজোগ এই সিদ্ধান্ত নেন।
১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট কেসেটে সরকার গঠনে প্রয়োজন হয় অন্তত ৬১টি আসন।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ব্লক: ডানপন্থি লিকুদ পার্টি, অতি-ডানপন্থি এবং আল্ট্রা-অর্থোডক্স মিত্রদের নিয়ে গঠিত এই জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন।
আইজেনকোটের মধ্যপন্থি ব্লক: মধ্যপন্থি ‘ইয়াশার’ পার্টিসহ চারটি বিরোধী দল মিলে জয় পেয়েছে ৪৮টি আসনে।
আরব জোট: ইউনাইটেড অ্যারাব লিস্ট এবং জয়েন্ট লিস্ট সমন্বিত দুটি আরব জোট রেকর্ড ১৯টি আসন জয় করে গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, জোট সরকার গঠনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ২৮ দিন সময় পাবেন আইজেনকোট, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আইজেনকোট লিখেছেন, ‘এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময় এসেছে। দেশের মানুষের আস্থার মর্যাদা দিতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
তবে সরকার গঠনের পথ অত্যন্ত জটিল। আরব দলগুলোর ঐতিহাসিক ১৯ আসন বড় ভূমিকা রাখলেও, ইহুদি দলগুলোর একটি ছাড়া বাকিরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিল তারা আরব জোটের সঙ্গে কোনও জোটে যাবে না। ফলে আইজেনকোট কি আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গড়বেন, আল্ট্রা-অর্থোডক্সদের টেনে আনবেন, নাকি নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনে রাজি হবেন— সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।