বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক পদ্মা সেতু শনিবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যানবাহনের জন্য টোল দিয়ে চালু হওয়ার পর স্বপ্নের পদ্মা সেতু মোটরসাইকেলে প্রথম পার হয়েছেন জালাল উদ্দিন এক ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে থাকা অপর একজন। রবিবার সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে ১০০ টাকা টোল দিয়ে তারা পদ্মা সেতু পার হন। টোল দেওয়ার সময় জালাল জানিয়েছেন, তিনি মাওয়া প্রান্ত থেকে মোটরসাইকেলে করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাবেন।
সেতু পার হয়ে উচ্ছ্বসিত জালাল বলেন, ‘পাবনা থেকে ঢাকা হয়ে এসেছি পদ্মা সেতু দেখতে। ভোর থেকে পদ্মা সেতু পার হওয়ার জন্য বন্ধুকে নিয়ে অপেক্ষা করেছি। প্রথম যাত্রী হিসেবে সেতু পার হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।’
সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে যানবাহন পারাপারের জন্য পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা খুলে দেওয়া হয়।’
এদিকে, প্রথমদিন জালালের মতো অনেকেই শখের বশে পদ্মা সেতু পারাপারের জন্য এসেছেন। পাঁচটি কাউন্টারের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু পারের এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পেরে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে– পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের যথাযথ প্রস্তুতি রয়েছে।
মোটরসাইকেলে পদ্মা সেতু পার হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এক যুবক বলেন, ‘পদ্মা সেতু দিয়ে পার হতে পেরে অনেক খুশি। আমরা যে এসেছি, এটি আমাদের কাছে কোনও জার্নি মনে হয়নি, এটি একটি স্বপ্ন ছিল। এটা ভাষা দিয়ে বর্ণনা করা যাবে না। যারা আসছেন, তারাই বুঝতে পারবেন।’
পদ্মা সেতুর কর্মীরা বলছেন, ‘আমরা সকাল ৬টা থেকে কাজ শুরু করেছি। সেতু উন্মুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক যানজট ছিল। কিন্তু, আমরা সামলে নিয়েছি। এখন সব আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সবাই অনেক খুশি। পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করছে।’
পদ্মা সেতুর টোল
মোটরসাইকেল ১০০ টাকা, কার ও জিপ ৭৫০ টাকা, পিকআপ ভ্যানে এক হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে এক হাজার ৩০০ টাকা টোল পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে, ছোট বাস (৩১ আসন) এক হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাস (৩২ আসন বা এর বেশি) দুই হাজার টাকা, বড় বাস (থ্রি-এক্সেল) দুই হাজার ৪০০ টাকা।