বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০১৫-১৬ তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির সম্মানিত ফেলো ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন- সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দান্দ্বিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছর মানুষের স্মরণ থাকবে শুধুমাত্র প্রবৃদ্ধির জন্য। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও এ বছর বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শ্রমের উৎপাদনশীলতা কম। যা উচ্চ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাধারণত উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলে এ সূচকগুলোও ইতিবাচক থাকে।
বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনও অর্থবছরের বাজেটেই আয় ও ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় না। এর জন্য বাজেটের গুণগত মান বাড়াতে হবে। নতুন বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ বাড়াতে হবে। সার্বিক আয় কোন খাতে ব্যয় হবে তা পরিষ্কার করতে হবে। কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মাথাপিছু বরাদ্দ কমেছে, তা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিভিন্ন নীতির সংস্কারের পরামর্শ দেন এ অর্থনীতিবিদ।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা যাবে না উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশে বিদেশে যে বেনামি সম্পদ রয়েছে, তা আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাজেটে কোনও বাড়তি সুবিধা না দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে বিনিয়োগের সম্পর্ক তুলে ধরে সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা ভারত এবং শ্রীলংকার মতো হলে বিনিয়োগ আরও ভালো হতো।
আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আগামী বাজেট যেন মূসক (ভ্যাট) নির্ভর না হয়। আমাদের আয়করের ওপর জোর দিতে হবে। কেননা, আয়কর একটি প্রত্যক্ষ কর। যারা সামর্থ্যবান তারাই শুধু আয়কর দেন। ভ্যাট হচ্ছে পরোক্ষ কর, যা জনসাধারণ দেয়।
/এসআই/এসএনএইচ/এপিএইচ/
আরও পড়ুন: