থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মোনা তাসনিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা তৈরি পোশাক পণ্যে থাইল্যান্ডে বিনা শুল্কে প্রবেশাধিকার চান। অন্যদিকে থাই ব্যবসায়ীরাও টেক্সটাইল পণ্যে বাংলাদেশে শূন্য শুল্ক প্রবেশাধিকার চান।
অারও পড়তে পারেন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে হেরেও লাভ বিএনপির
জানা গেছে, উভয় পক্ষ একে অপরকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং এজন্য তারা নিজ নিজ সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পেশ করবেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, তার সঙ্গে থাই সরকারের আলোচনা হয়েছে এবং তারা আগামী বছরে তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশকে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করবেন।
মঙ্গলবার ব্যাংককে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ এক্সপো অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে দু’দেশের ব্যবসায়ীরা আলোচনায় বসেন। আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমেদ।
থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে ফেডারেশন অফ থাই চেম্বার, থাই চেম্বার অফ কমার্স এবং জয়েন্ট ফরেন চেম্বার অফ কমার্স অফ থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা একমত হয়েছেন যে, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সরাসরি কোস্টাল শিপিং লাইন যোগাযোগ ও বিমসটেক ভিসা ব্যবস্থা চালু হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড উভয়ই সাত সদস্যবিশিষ্ট বিমসটেকের সদস্য এবং বিমসটেক ভিসা ব্যবস্থার সুফল উভয় দেশই পাবে। একই ধরনের সার্ক ভিসা ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীরা দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশে সহজে যাতায়াত করতে পারেন।
আরও পড়তে পারেন: ইউপি নির্বাচন দলীয় হওয়ায় এতো প্রাণহানি
তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে অবহিত করেন এবং থাই ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করার আহ্বান জানান।
ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন,মঙ্গলবার সকালে ইউনিথাই’র সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশ থেকে মাছ ধরার ট্রলার কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাহাজ প্রস্ততকারীরা ১৫,০০০ ডেডওয়েট টন ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ তৈরিতে সক্ষম।
মোহাম্মাদি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা থাইল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাই।
শুল্ক বাধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, থাইল্যান্ড তৈরি পোশাক ক্যাটাগরির কয়েকটি পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে এবং এর ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এখানে রফতানির ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি এ বাধা দূর করার আহ্বান জানান।
কাজী অ্যান্ড কাজী টি-এর পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ তার প্রেজেন্টেশনে বলেন, তাদের কোম্পানি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি দেশে চা রপ্তানি করে। তিনি বলেন, তারা একটি ব্র্যান্ড তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন এবং তাদের পণ্য পরিবেশবান্ধব।
তাদের পণ্য হ্যারডস্, ট্রি অফ লাইফ, হল্যান্ড অ্যান্ড বেরেট, হোলফুড, কুরগার ও টার্গেটে বিক্রি হয়।
ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে এবং এ খাতে ঋণ খেলাপি প্রায় শূন্য শতাংশ। তিনি জানান, মোট ব্যাংকিং ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ এখাতে বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে, ফেডারেশন অফ থাই ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান চেন নামচাইসিড়ি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে টেক্সটাইল ব্যবসা সহজীকরণে আলোচনা শুরু করার জন্য তিনি আজ (মঙ্গলবার) সকালে থাই টেক্সটাইল এসোসিয়েশনের কাছ থেকে একটি অনুরোধ পেয়েছেন।
এসএসজেড/এমএসএম /