ব্যাংকের সাজসজ্জায় ব্যয় কমানোর নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকদেশের অধিকাংশ ব্যাংক তাদের নতুন শাখা স্থাপন, স্থানান্তর বা স্থাপনা ভাড়া করে আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করছে। আবার কোনও কোনও ব্যাংক বেশি খরচের মাধ্যমে বিশেষ শ্রেণির গ্রাহকদের উচ্চমানের সেবা দিয়ে ব্যাংকিং সেবায় ব্যাপক বৈষম্য তৈরি করছে। এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ব্যাংকগুলোর সাজসজ্জায় ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২০ জুন) দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে,  ব্যাংক তার  নতুন শাখা স্থাপন, স্থানান্তর বা স্থাপনা ভাড়া করে আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জায় অত্যাধিক ব্যয় করায় ব্যাংক-কোম্পানির খরচ বাড়ছে। এর ফলে ব্যাংক-কোম্পানির ব্যবস্থাপনার ওপর আমানতকারী ও মূলধন যোগানদাতাদের আস্থা হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে সার্কুলারে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এ সংক্রান্ত সার্কুলারে বলা হয়েছিল, ব্যাংকের অর্থে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিলাসবহুল মোটরগাড়ি কেনা হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও ব্যাংকের শাখার চাকচিক্যপূর্ণ সাজসজ্জায় ব্যয়ও করা হচ্ছে বিপুল অর্থ। এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উঠছে। তাই এসব বিষয়ে ব্যাংকে আমানতকারী ও পুঁজির যোগানদাতাদের আস্থা বজায় রাখতে ব্যয়সাশ্রয়ী হতে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘ব্যয় সাশ্রয় আয়-উদ্বৃত্ত বৃদ্ধি করতে সহায়ক হয় এবং ব্যবসার প্রসারের জন্য সুদ বা চার্জ বা ফির হার হ্রাস প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুসারে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নতুন শাখা স্থাপন বা বিদ্যমান শাখা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে শহর শাখার জন্য পাঁচ হাজার বর্গফুট এবং পল্লি শাখার জন্য দুই হাজার বর্গফুটের বেশি ফ্লোর স্পেস ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সরঞ্জাম ছাড়া অন্যান্য খাতে যেমন—ভল্ট স্থাপন, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, অফিস ফার্নিচার, ইলেকট্রিক বা ইলেকট্রনিক ইত্যাদি খাতে নতুন শাখা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকার বেশি ব্যয় করা যাবে না। বিদ্যমান শাখা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের জন্য এক হাজার টাকার বেশি ব্যয় করা যাবে না। আইটি সরঞ্জাম খাতেও ব্যয় যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখতে হবে।

আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামে বিলাসিতা বা চাকচিক্যের বদলে মৌলিক প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে পর্যাপ্ত গুণগত মান ও টেকসই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

আরও পড়ুন-

জনগণের ওপর চেপে থাকা সরকারকে প্রশ্রয় দেবে না ভারত: বিএনপি 

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যুবক শরিফুল না, মুকুল

/জিএম/এফএস/