এর আগে মঙ্গলবার বিভিন্ন খাতের রফতানি পণ্যে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশে ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২০টি খাতে রফতানি পণ্যে প্রণোদনা দেবে সরকার। এর মধ্যে এই বছরে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ফার্নিচার, প্লাস্টিক, গরুর নাড়িভুঁড়ি শিং ও রগ, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র, শস্য ও শাকসবজির বীজ, পাটকাঠির কার্বন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে উৎপাদিত ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের উপ-মহা ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে মিথ্য তথ্য দিয়ে প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ব্যাংকগুলো যেন এ ব্যাপারে সর্তক থাকে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
কিভাবে প্রণোদনা পাওয়া যাবে—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় সঙ্গে তার বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে ছাড়কৃত তহবিল হতে ভর্তুকিবাবদ দাখিলকৃত আবেদনের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুকূলে অর্থ দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মতে, শস্য ও শাক সবজি এর বীজ রফতানির বিপরীতে ভর্তুকি পেতে হলে রফতানিকৃত পণ্যের হ্যান্ডেলিং, মানোন্নয়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিবহন এবং ফ্রেইট চার্জ পরিশোধজনিত ব্যয়ের বিপরীতে ডব্লিউটিও বিধি অনুযায়ী ভর্তুকি দিতে হবে। একইভাবে পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন রফতানির বিপরীতেও ভর্তুকি পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভুর্তুকি পরিশোধ নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনের/সরকারি বাণিজ্যিক নিরীক্ষা বিভাগের পরীক্ষণের জন্য পরিশোধের তারিখ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত শাখায় সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া রফতানি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও অস্পষ্টতা দেখা দিলে বা তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও অডিট ফার্ম, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, টিসিবি ভবন, ১ কাওরান বাজার থেকে পরামর্শ গ্রহণ করবে।
এদিকে গত বছর হাড়ের গুড়া রফতানি খাতে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিলেও এই খাতে এখন থেকে আর কোনও নগদ সহায়তা দেবে না সরকার। এছাড়া আলু রফতানি খাতে ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ হারে এবং হোগলা, খড়, আখের ছোবড়া দিয়ে তৈরি পণ্য রফতানি খাতে ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজে করে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে এই সহায়তা পরিশোধ করবে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে ফার্নিচার রফতানির বিপরীতে ১৫ শতাংশ, প্লাস্টিক দ্রব্য, গরু ও মহিষের নাড়িভুঁড়ি শিং ও রগ রফতানির বিপরীতে ১০ শতাংশ, সাভারের ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রফতানির বিপরীতে ৫ শতাংশ হারে রফতানি ভর্তুকি দেওয়া হবে। এ ছাড়া শস্য ও শাক-সবজির বীজ ও পাটকাঠির কার্বন রফতানির বিপরীতে ২০ শতাংশ হারে রফতানি প্রণোদনা দেওয়া হবে।
সেই সঙ্গে ইউরোপীয় অঞ্চলে বস্ত্র খাতের রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ৪ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ২ শতাংশ বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া চামড়াজাত দ্রব্যাদি রফতানি খাতে নগদ সহায়তার হার সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ এবং জাহাজ রফতানির বিপরীতে রফতানি ভর্তুকির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা এবং এ খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা আগের মতো ৪ শতাংশ থাকবে। বস্ত্র খাতে নতুন বাজার সম্প্রসারণে ৩ শতাংশ সহায়তা, হাতে তৈরি পণ্য (হোগলা, খড়, ছোবড়ার পণ্য) ও হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানিতে ১৫ শতাংশ, কৃষিপণ্য ও হালাল মাংস রফতানিতে ভর্তুকি ২০ শতাংশ বহাল আছে। এ ছাড়া হিমায়িত চিংড়ি রফতানিতে বরফ আচ্ছাদনের হার ৭ থেকে ১০ শতাংশ এবং অন্যান্য মাছের ক্ষেত্রে বরফ আচ্ছাদনের হার ২ থেকে ৫ শতাংশ এবং বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য রফতানিতে নগদ ভর্তুকি পণ্যভেদে ৫ থেকে ২০ শতাংশ বহাল আছে ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বস্ত্র খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংজ্ঞা পুনর্নিধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে কোনও অর্থবছরে সাড়ে ৩৫ লাখ ডলারের বস্ত্র বা সামগ্রী রফতানি করলে এবং বৃহৎ কোনও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন না হলে পরবর্তী অর্থবছরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বস্ত্রশিল্প হিসেবে সংজ্ঞায়িত হবে। এছাড়া বস্ত্র খাতের নগদ সহায়তার প্রাপকপক্ষ একই রফতানির বিপরীতে ৩টি খাত মিলে এক সঙ্গে ১১ শতাংশ পাপ্য হলেও ১০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে।
/এমএনএইচ/