আজ শুরু হচ্ছে আয়কর মেলা

জাতীয় আয়কর মেলা

অনলাইনে আয়কর জমা ও বিবরণী দাখিল করার সুযোগ করে দিতে আজ শুরু হচ্ছে সাত দিনব্যাপী আয়কর মেলা। ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’ শ্লোগান নিয়ে এই মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে এবারের মেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সুখী স্বদেশ গড়তে ভাই, আয়করের বিকল্প নাই।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিজস্ব ভবনে এবারই প্রথম এই মেলা বসবে। ঢাকার এই মেলা শেষ হবে ৭ নভেম্বর। পাশাপাশি বিভাগীয় শহর এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও মেলার আয়োজন হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে এ মেলা হবে ৪ দিন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জাতীয় আয়কর দিবস পালন করা হবে ৩০ নভেম্বর। সংস্থাটির ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওই দিনের মধ্যে কেউ রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে জরিমানা গুনতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের মানুষকে কর দিতে উৎসাহিত করতে এবং কর সম্পর্কে জনগণের ভীতি দূর করতে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার মনোভাব নিয়ে এবারও করমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, এবারের মেলায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে অটোমেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বরাবরের মতো এবারও মেলায় করদাতাদের সব ধরনের তথ্য সেবা দেওয়া হবে। থাকবে ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা, রিটার্ন দাখিল করা, ই-পেমেন্ট কর পরিশোধ। এ ছাড়া বরাবরের মতো এবারও বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য থাকবে আলাদা বুথ ।

কর পরিশোধের জন্য মেলায় রাখা হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বুথ। এ ছাড়া আয়কর দিবস উপলক্ষে এবারও সেরা করদাতাদের পুরস্কৃত করা হবে।

গত কয়েক বছর ধরে আয়কর মেলা হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে। করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে আয়কর দিবস চালু করে এনবিআর। প্রতিবছরই ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় আয়কর দিবস পালন করে আসছিল এনবিআর। প্রথম দিকে শুধু ঢাকায় মেলা করা হলেও ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে দেশের  বিভাগীয় শহর এমনকি জেলা পর্যায়েও এই মেলার পরিসর বাড়ায় এনবিআর। এ ধারাবাহিকতায় এখন উপজেলা পর্যায়ে আযকর মেলা করবে এনবিআর।

বিগত বছরগুলো প্রথমে ৩০ সেপ্টেম্বরকে আয়কর দেওয়ার শেষ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হতো। তবে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধে আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হতো। অতীতের বছরগুলোয় এটি অন্তত দুই মাস বাড়ানোর বিষয়টি নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে সময়মত আয়কর রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের মধ্যেও উৎসাহে ঘাটতি দেখা দিত।

সূত্র জানায়, গতবারের মেলায় মোট রিটার্ন জমা পড়েছিল প্রায় দেড় লাখ। কর আদায় হয়েছে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। মোট সেবা নিয়েছে সাড়ে ৬ লাখ করদাতা।

জানা গেছে, চলতি করবর্ষেই করদাতারা তাদের আয়কর বিবরণী অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। জমা দেওয়া বিবরণীর প্রাপ্তি স্বীকারপত্রও পাওয়া যাবে অনলাইনে। এনবিআর আয়কর অনুবিভাগের স্ট্রেনদেনিং গভর্ন্যান্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (এসজিএমপি) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এ কার্যক্রম। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশব্যাপী ৩১টি কর অঞ্চলের আওতাধীন মাঠপর্যায়ের ৬৪৯টি আয়কর সার্কেল অফিস মূল সার্ভারের ডিজিটাল সংযোগে যুক্ত হবে।

এদিকে সেরা করদাতা হিসেবে বিশ জনের পরিবর্তে এবার থেকে ১২৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্সকার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগে ট্যাক্সকার্ড নীতিমালার আলোকে দুই ক্যাটাগরিতে (ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান) ১০ জন করে মোট ২০ জনকে ট্যাক্সকার্ড দেওয়া হত।

/জিএম/এসএ/টিএন/