একনেকে ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়সহ ১০টি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভাসভায় একনেক সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিকল্পনামন্ত্রী একনেক সভা শেষে বিস্তারিত সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকার দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে দেশের শতকরা ৭৮ ভাগ জনগোষ্ঠী বিদ্যুতের আওতায় এসেছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে দেশের সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৯ সালের মধ্যেই সরকার দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রী ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা রক্ষায় ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।’

একনেক সভায় এবার ‘পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট আন্ডার পিজিসিবি’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার ৭০৩.৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৩ হাজার ৭২৯.২৫ কোটি টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ২৬৬.৪৪ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৯ হাজার ৭০৭.৬২ কোটি টাকা।

এছাড়া অনুমোদন পেয়েছে, ‘বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতাবর্ধন, পুনর্বাসন ও নিবিড়করণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ)’ প্রকল্প। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ৪০৩.৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১ হাজার ৩৫৫.৫৭ কোটি টাকা। সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৪.২৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ২ হাজার ৪৩.৯৯ কোটি টাকা। প্রকল্প সাহায্য প্রদানকারী সংস্থা এডিবি।

অনুমোদন পেয়েছে, ‘বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতাবর্ধন, পুনর্বাসন ও নিবিড়করণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ’ প্রকল্প। এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ৭৭.৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১ হাজার ২০১.৭৭ কোটি টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৪.২৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ১ হাজার ৮৭১.৫০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬২৮.১০ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।

‘গ্যাস ট্রান্সমিশন ক্যাপাসিটি এক্সপানশন-আশুগঞ্জ টু বাখরাবাদ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৫১৩.৪৬ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি। মুরাদপুর ২নং গেইট ও জিইসি ফ্লাইওভার নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৯৬.৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৬৭১.৩৪ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল ২৫ কোটি টাকা।

এছাড়াও ঢাকার ‘গুলশান, ধানমণ্ডি ও মোহাম্মদপুরে ২০টি পরিত্যক্ত বাড়িতে ৩৯৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৬৬.৫৪ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।

একই সঙ্গে অনুমোদন হয়েছে, ‘টঙ্গী-কালিগঞ্জ-ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-৩০১) শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু হতে পাঁচদোনা পর্যন্ত অংশ জাতীয় মহাসড়ক মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৮২.৯৭ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।

অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ‘কক্সবাজার জেলার বাঁকখালী নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিস্কাশন, সেচ ও ড্রেজিং প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পেরও। এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ২০৩.৯৩ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি। ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অপারেশন সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ২০০.৩০ কোটি টাকা। এর পুরোটাই জিওবি।

/এসআই/এমও/