জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

জঙ্গি অর্থায়নে অভিযুক্ত হওয়াকে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামি ব্যাংকিংয়ের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো জঙ্গি অর্থায়নে অভিযুক্ত হওয়া। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম ভবনে ‘ইসলামি ব্যাংকিং অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক কর্মশালায় এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকিং অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক কর্মশালাপ্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গি অর্থায়নের অপপ্রচার বা প্রপাগান্ডা সম্পর্কে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা এবং গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। এছাড়া ‘ইসলামি ব্যাংকিং অ্যাক্ট’ না থাকা, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব এবং সেবার বহুমুখীকরণের অভাব এ ব্যাংকিংয়ের অন্যতম বাধা।

এতে আরও বলা হয়, ইসলামি ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে ১০ নম্বরে। বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যাবস্থার মোট ১৯.৪ শতাংশ ইসলামি ব্যাংকিং। এ তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে সুদান ও ইরান। তারা শতভাগ ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় চলছে। এছাড়া ইসলামি ব্যাংকিংয়ে সৌদি আরবের অবস্থান চতুর্থ, যাদের ৫১.১ শতাংশ ইসলামি ব্যাংকিং। এই র‌্যাংকিংয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ১৩ নম্বরে।

বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. আলমগীর প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে ইসলামি ব্যাংকের আর্থিক ও পরিচালন অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকের তুলনায় ইসলামি ব্যাংকিং সবদিক দিয়েই লাভজনক। ২০১৬ সালে সাধারণ ব্যাংকিংয়ে নিট প্রফিট মার্জিন যেখানে ১.৯ সেখানে ইসলামি ব্যাংকিং এ ৩.৬ শতাংশ। একইভাবে মোট সম্পদের বিপরীতে সাধারণ ব্যাংকিংয়ে আয় ৫.৫ শতাংশ, যেখানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ৭.৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ইসলামি ব্যাংকিংয়ে খেলাপি ঋণের হারও অনেক কম। ২০১৬ সালে অন্যান্য সাধারণ ব্যাংকিংয়ে খেলাপি ঋণের হার যেখানে ৯.২ শতাংশ সেখানে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে ৪.৩ শতাংশ।’

কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। ইসলামি ব্যাংকে নারী কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উপর মত দেন ডেপুটি গভর্নর। তিনি বলেন, ‘ইসলামি ব্যাংকিং বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কোনও আইন নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সারাবিশ্বে ইসলামি ব্যাংকের ৬০ শতাংশ অমুসলিম গ্রাহক রয়েছে, বলেও জানান তিনি।

ইসলামি ব্যাংকগুলোকে প্রফেশনাল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি ব্যাংকিংয়ের পরামর্শক মো. আজিজুল হক। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় যে, ইসলামি ব্যাংকিং পদ্ধতি প্রফেশনাল না হয়ে ধর্মীয়ভিক্তিক হয়ে যায়, এটা ক্ষতিকর। যেসব ব্যাংকে শরিয়া কাউন্সিল শক্তিশালী নয়। সেখানে ইসলামি ব্যাংকের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন কঠিন। বিশেষ করে নতুন নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় না।’

বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘এত বছরেও ইসলামি ব্যাংকিংয়ে কোনও আইন নেই, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ব্যাংকিং কোম্পানি আইনের আদলে ইসলামি ব্যাংকিং আইন করতে হবে। যাতে সব ব্যাংক এক প্লাটফর্মের নিচে আসতে পারে।’

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের বেশকিছু ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর শরিয়া কাউন্সিলের সদস্যদের ইসলামি ব্যাংকিং বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা দুটোই কম।’

বিআইবিএমের সুপার নিউমারারি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াছিন আলী বলেন, ‘ইসলামি ব্যাংকিংয়ে মূলত ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হয়। তবে অনেকে এ ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের ধোঁকা দিচ্ছে। এ ধরণের কার্যক্রম ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। তিনি ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।’

/জিএম/এমও/