নিম্নমুখী রেমিটেন্স দিয়ে শুরু হলো নতুন অর্থবছর

ডলারনিম্নমুখী রেমিটেন্স দিয়ে শুরু হলো নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বৈধ চ্যানেলে ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত জুনে তাদের কাছ থেকে এসেছিল ১২১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। সেই হিসাবে প্রবাসী আয় কমেছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। একমাসের ব্যবধানে প্রবাসী আয় কমে গেছে প্রায় ১০ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় কমছে। তবে বিকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হুন্ডি চক্র সক্রিয় হওয়া এবং ব্যাংকের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাচ্ছেন না।
তবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনিন আহমেদ মনে করেন, প্রবাসী আয়ের একটা বড় অংশ দেশে না এসে চলে যাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশি কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ বিভিন্ন দেশে রেমিটেন্সের টাকা সংগ্রহের পর বিনিয়োগ করছেন বিভিন্ন খাতে।’
এর আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে বড় ধরনের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ২০১৬-১৭ অর্থবছর। গত অর্থবছরে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ (১২.৭৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম। শুধু তাই নয়, বৈধ চ্যানেলে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম রেমিটেন্স এসেছে গত অর্থবছরে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে রেমিটেন্স কমেছিল ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

রেমিটেন্সের এই নিম্মমুখী প্রবণতা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও রেমিটেন্স পতন ঠেকানো যাচ্ছে না। রেমিটেন্স প্রবাহ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা একরকম উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি তারা এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন। রেমিটেন্সের এই নিম্নমুখী প্রবণতায় উদ্বিগ্ন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও। তিনি সম্প্রতি প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠাতে ব্যাংক মাশুল না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

হুন্ডি ও অন্যান্য অবৈধভাবে দেশে রেমিটেন্স আসার কারণে এমন হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে হুন্ডির প্রবণতা সরাসরি দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি প্রতিনিধিদল গত মার্চে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে গিয়েছিল। তিন দেশেই দলটি দেখেছে, বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ-এর নামে রেমিটেন্সের অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে। ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশের বিকাশ হিসাবে ওই টাকা জমা হয়ে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেট-এর নামেও দেওয়া হচ্ছে এই সেবা।

এদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে সেবার মান বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি শাখায় রেমিটেন্স হেল্প ডেস্ক, বৈধপথে রেমিটেন্স আনার সুযোগ-সুবিধা প্রচার ও জরুরি ভিত্তিতে প্রবাসীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থাসহ ছয়টি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে রেমিটেন্স বাড়বে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর সুফল পাওয়া যাবে অচিরেই। সামনে কোরবানির ঈদ। সেই হিসাবে আগস্টে রেমিটেন্সের ইতিবাচক দিক দেখা যাবে। এছাড়া অর্থমন্ত্রীর মাশুল না নেওয়ার ঘোষণা কার্যকর হলে রেমিটেন্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ।

/জিএম/জেএইচ/