দেশের তৈরি পোশাকশিল্প মালিকরা তাদের কারখানার শ্রমিকদের ২৪ আগস্টের মধ্যে উৎসব ভাতা পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই সে প্রতিশ্রুতি রাখেননি। অনেক গার্মেন্ট শ্রমিক এবারও ঈদে উৎসব ভাতা ও আগস্ট মাসের বেতন পাননি। তাদের অনেকে বৃহস্পতিবারও কোথাও কোথাও বিক্ষোভ করেছেন, কোনও কোনও কারখানায় শ্রমিকরা বেতন-বোনাসের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে ধর্না দিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবস ও কাল শুক্রবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বেতন-বোনাস না পাওয়া শ্রমিকরা ঈদের আগে তা পাবেন- এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার পাশের সাভার ও আশুলিয়ার সাতটি গার্মেন্টের শ্রমিকরা বেতন ও বোনাসের দাবিতে রাজধানীর কাওরান বাজারে বিজিএমইএ ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে কয়েক দফায় সেখানে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। তাদের বিক্ষোভের মুখে বিজিএমইএ নেতারা সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকদের ডেকে এনে সমস্যা সমাধান করেন। শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে শ্রমিকরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।
তিনি আরও বলেন,‘এ বছর সব কারখানার মালিকই বিপদে আছেন। কাজ নেই, তাই আয়ও নেই। এ কারণেই কারখানার মালিকরা তাদের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে পারেননি। এছাড়া, এতগুলো কারখানার লাখ লাখ শ্রমিকের বেতনের পরিমাণও তো লাখো কোটি টাকা। এ নিয়ে তো কিছু জটিলতা হতেই পারে। তা-ই হয়তো হয়েছে। আমরা এর সমাধান করে দিয়েছি।’
বৃহস্পতিবারই বিজিএমইএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এবার শতভাগ শ্রমিকই বেতন-বোনাস পেয়েছেন এবং তারা বাড়ি চলে গেছেন।’
কিছু কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর অধীনে তিন হাজার ১০০টি কারখানা চালু আছে। আমরা এসব কারখানার কথা বলছি। সদস্য নয়– এমন কারখানার কথা আমরা বলতে পারবো না। সেটা আমাদের দায়িত্বও নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের জানামতে উৎসব ভাতা ও জুলাই মাসের বেতন প্রদান করা হয়েছে শতভাগ কারখানায়। শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে অধিকাংশ কারখানায় আগস্ট মাসের অগ্রিম বেতনের আংশিক ও কোনও কোনও ক্ষেত্রে পূর্ণ বেতনও দেওয়া হয়েছে।’
এ বছরের রোজার ঈদে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোয় বেতন-বোনাস নিয়ে দেশের কোথাও তেমন কোনও অঘটন ঘটেনি। বিজিএমইএ ও সরকারের যৌথ মনিটরিং ও উদ্যোগের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিকরা বেতন-বোনাস নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। এবারের কোরবানির ঈদেও ২৪ আগস্টের মধ্যে সব গার্মেন্টে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের অঙ্গীকার করেছিলেন গার্মেন্টস মালিকরা। তবে এবার এর কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘ঈদের আগে অনেকে সময় সব মালিকের হাতে নগদ টাকা থাকে না। অনেক সময় তাদের কোনও অর্ডারের টাকা হাতে পেয়ে বেতন দিতে হয়। এমনও আছে যে, দু’টি গার্মেন্টের মালিককে কারখানার মেশিন বিক্রি করে বেতন পরিশোধ করতে হয়েছে। ৪০ লাখ শ্রমিকদের হাজার কোটি টাকা বেতন দিতে কিছু সমস্যা হওয়া তো স্বাভাবিক।’
সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেতন-বোনাস নিয়ে যাতে শিল্পাঙ্গনে অস্থিরতা দেখা না দেয়, সেজন্য আমরা তৎপর ছিলাম। পোশাকশ্রমিকরা যাতে বেতন ও উৎসব ভাতা ঠিকমতো পান, সেজন্য সব কারখানায় মনিটরিং করা হয়েছে। যেগুলোয় সমস্যা হবে বলে মনে করা হয়েছে সেগুলোয় আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করে দিয়েছি। একই সঙ্গে শ্রমিক অসন্তোষ যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখা হয়েছে।’