ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, একনেক বৈঠকে উপস্থাপিত ১৪টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার যোগান দেবে ১০ হাজার ৪৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আর সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৫০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
মঙ্গলবারের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের চারটি প্রকল্পকে অনুমোদন দেয় একনেক। এর মধ্যে ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প: বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর’-এর জন্য ধরা ব্যয়ের অঙ্ক ৯৫০ কোটি টাকা। ‘সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া ‘গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের জন্য ধরা ব্যয়ের পরিমাণ ৩৫৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প। এর মধ্যে ‘আজিমপুর সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ‘ঢাকাস্থ জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদফতর) জন্য ২৮৮টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্পের জন্য ধরা ব্যয়ের অঙ্ক ৩০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এছাড়া ‘ঢাকাস্থ মতিঝিল সরকারি কলোনিতে (হাসপাতাল জোন স্টোর কম্পাউন্ড) বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ২২ লাখ টাকা।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দুটি প্রকল্পকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এদিনের বৈঠকে। এর মধ্যে ‘কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। এছাড়া ‘শেরপুর (আখেরবাজার)-লঙ্গরপাড়া-শ্রীবর্দী (মামদামারী) সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ’ প্রকল্পের জন্য ব্যয়ের পরিমাণ ৮২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
একনেক বৈঠকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন’-এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের জন্য ধরা ব্যয়ের অঙ্ক ১৪৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ‘উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন’ প্রকল্পের জন্য ধরা ব্যয়ের পরিমাণ ২৩২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘আশ্রয়ণ-৩ (বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১ লাখ নাগরিকের জন্য নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নস্থ ভাসানচরে আবাসন ও দ্বীপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ) প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।