জানা গেছে, একবছরের জন্য সময় বাড়াতে সিএসই’র আবেদনের প্রেক্ষিতে এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী ২০১৩ এর ১৪ (১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে দেওয়ার পরেও কৌশলগত অংশীদার (স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার) চূড়ান্ত করতে পারেনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চীনের সাংহাই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোটকে নির্বাচন করে বিএসইসিতে প্রস্তবনা জমা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১ মার্চ সিএসই’র বোর্ড সভায় কৌশলগত অংশীদার চূড়ান্ত করতে একবছর সময় বাড়াতে আবেদন করার নীতিগত সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরে গত মঙ্গলবার সিএসই’র পক্ষে থেকে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, যোগ্য কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণে সিএসই কাজ করছে। ইতোমধ্যে ৪৬টি স্টক এক্সচেঞ্জকে ও ৪২টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথিকীকরণ) আইনানুযায়ী কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে স্টক এক্সচেঞ্জের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে এ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি বলে পুনরায় সময় বাড়াতে কমিশনে একাধিকবার আবেদন করে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে কমিশন সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে ৮ মার্চের মধ্যে এ সংক্রান্ত সব কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়।
গত ডিসেম্বরে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ এর ১৪ (১) ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে আগামী ৮ মার্চের মধ্যে এ সংক্রান্ত সব কার্যাদি সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণের অগ্রগতি বিষয়ে প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারিত করে এ সংক্রান্ত সব কার্যাদি সম্পন্ন করতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দিয়েছিল সংস্থাটি। এ সময়ের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণ করতে না পেরে সময় বাড়ানোর জন্য বিএসইসিতে পুনঃআবেদন করে ডিএসই ও সিএসই।
২০১৩ সালের স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথিকীকরণ) আইনে ২০১৬ সালের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে স্টক এক্সচেঞ্জের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা ছিল। এসময়ের মধ্যে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়।
ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিমের শর্ত অনুযায়ী, ব্লকড হিসেবে থাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ৬০ শতাংশ শেয়ার কৌশলগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ (সংরক্ষিত শেয়ার থেকে) কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে এবং বাকি ৩৫ শতাংশ শেয়ার আইপিও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রি করতে হবে। অন্যদিকে ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক থাকবে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য বা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান।