টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসনের তাগিদ রেহমান সোবহানের

বক্তব্য রাখছেন রেহমান সোবহানউন্নয়নশীল দেশের তালিকায় টিকে থাকতে টেকসই গণতন্ত্র ও সর্বক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। শনিবার (১০ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত ‘এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এ তাগিদ দেন।

রেহমান সোবহান বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় পর বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেবে। রফতানি ও রেমিন্ট্যান্স কমবে। ইউরোপেও জিএসপি থাকবে না। তবে এগুলো সমাধানযোগ্য হবে তখনই, যখন দেশের মধ্যে টেকসই গণতন্ত্র বজায় থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত যতগুলো দেশ এলডিসি (স্বল্পোন্নত) থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় গেছে, সেগুলোর মধ্যে ছোট দ্বীপ দেশগুলো শুধু সংখ্যার অর্জন দিয়ে উত্তরণ হয়েছে। এই ধরনের অনেক দেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে সমস্যায়ও পড়েছে। এই কারণে উত্তরণ কতটা টেকসই হলো, সেটাই মূল বিষয়। সেটাই দেখার বিষয়।’

উদাহরণ দিয়ে রেহমান সোবহান বলেন, ‘যেসব দেশ এলডিসি থেকে বের হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি দেশও পাওয়া যাবে না, যাদের উদ্যোক্তা শ্রেণি আছে এবং একটি সক্রিয় শ্রমশক্তি আছে। যেমন মালদ্বীপ শুধু পর্যটননির্ভর অর্থনীতির দেশ।’

সংলাপে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কৌশল প্রণয়নের তাগিদ দিয়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এলডিসি থেকে বের হলে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হবে। বাংলাদেশ এমন একটি সময়ে এলডিসি থেকে বের হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিবেশ অনুকূলে নয়। তাই একটি উত্তরণকালীন কৌশল ঠিক করা উচিত।’

এ মাসেই জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ত্রি-বার্ষিক পর্যালোচনায় এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্তরূপে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য গর্বের বললেও সামনের দিনগুলোতে সামাজিক বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বহাল রাখা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আমরা গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সামনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এটাই শেষ নয়। আমাদের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ঠিকই, সেই সঙ্গে ভয়ও পাচ্ছি। কেননা, সমাজে ক্রমে বৈষম্য বাড়ছে। দারিদ্র্য বিমোচনে আমরা অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছি, তবু পুরোপুরি বিমোচন করতে পারছি না।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র একটি পণ্য থেকে ৮০ শতাংশ রফতানি আয় হয়। রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। নতুন নতুন বাজারে পণ্য নিয়ে যেতে হবে।’

এছাড়া, বিভিন্ন অধিবেশনে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, ইউএনডিপির আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত চারলোটা স্কালাইটার বক্তব্য দেন।