মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এলটিইউ প্রাঙ্গণে স্থাপিত করদাতা সম্মাননা গ্যালারির উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে এলটিইউ এর নিজস্ব লোগো, ক্রেস্ট, ডায়েরি, কোট পিন ও ড্রেস উদ্বোধন করা হয়।
ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির ডাবল ট্যাক্স প্রত্যাহার, আয়করের ক্ষেত্রে বিবিধ খরচ বা ব্যয়ের ওপর করারোপ প্রত্যাহার, ইন্সুরেন্সের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার, করপোরেট কর কমানো, বড় করদাতাদের ট্যাক্স কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
এ সময় মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘করপোরেট কর কমানোর বিষয়ে কাজ হচ্ছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও স্থানীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, তা আমাদের নজরে আছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার ক্ষেত্রে বেনিফিট দেওয়া উচিত। রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করা হবে। আমাদের ট্যাক্স জিডিপি অনেক কম, তা বাড়াতে ট্যাক্স ও ভ্যাটে করদাতাদের কমপ্লায়েন্স হওয়া দরকার।’ বন্ড মার্কেটের সুবিধা কেন বন্ধ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় দ্বৈত কর প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে মূসক, কর ও শুল্ক বিভাগ অটোমেশনের আওতায় চলে আসবে উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান।
এর আগে সেবা খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘জনগণের কাছে ভ্যাটকে সহজভাবে তুলে ধরতে কাজ করছে এনবিআর।’ ২০১৯ সালে এই ভ্যাট আইন কার্যকর করতে কয়েকটি স্ল্যাব করারও ঘোষণা দেন তিনি। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভ্যাট বাস্তবায়নে কাউকে কম রেট দিতে হবে। কাউকে ৫ শতাংশ, কাউকে ৭ শতাংশ, কাউকে ১৫ শতাংশ এভাবে কয়েকটি স্ল্যাব করে ভ্যাট কার্যকর করা হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, আইন করেও গত বছর ভ্যাট বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা ২০১৯ সালকে টার্গেট করেছি। নির্বাচনের পর এই ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে।
একইদিনে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের রফতানি আয় বাড়াতে হবে। এজন্য রফতানিমুখী পণ্য আমদানিতে (শুল্কমুক্ত সুবিধা) বন্ড সুবিধার আওতা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ নতুন নতুন পণ্য যোগ করা হবে।’ এছাড়া, অপ্রচলিত পণ্য (দেশের বাজারে যেসব পণ্যের চাহিদা কম) রফতানিতে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আলোচনা সভায় ব্যবসায়ীরা করপোরেট কর কমানো ও রফতানিতে নগদ সহায়তা বাড়ানেরে দাবি করেন। তারা বলেন, লভ্যাংশের করসহ অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার কর প্রদান করতে হয়। এটি একটি বড় সমস্যা। এ বিষয়টি বিবেচনা করারও দাবি করেন তারা। ৫ থেকে ৭ বছরের নিচে রাজস্ব নীতি না করে দীর্ঘ মেয়াদি রাজস্ব নীতির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ১৫০ সিসির ওপরে মোটরসাইকেল আমদানি করাসহ ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রস্তাবের দাবি জানান তারা।