১৯৫৯ সালের ওই নীতিমালায় শুধুমাত্র কৃষিপণ্য সংরক্ষণে ওয়ারহাউজ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে সময়ের পরিক্রমায় কৃষিপণ্য ছাড়াও অন্যান্য পণ্য সংরক্ষণে ওয়ারহাউজ বা স্টোরেজের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় বিদ্যমান নীতির সংস্কার বা এ খাতের বিকাশের লক্ষ্যে নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন আবশ্যক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সালাম। কর্মশালায় আইএফসির বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওয়েন্ডি ওয়ারনার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালন ও সম্প্রসারণে পণ্য সংরক্ষণ এবং ওয়ারহাউজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সময়ে গ্রাহকদের কাছে গুণগত পণ্য পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়ারহাউজ এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপ্রতুল পরিবহন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।’
তিনি জানান, লজিস্টিক পারফরমেন্স ইনডেস্ক অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ৮৭তম, যেখানে ভারতের অবস্থান ৩৫তম। এ অবস্থায় আমাদের এ খাতের উন্নয়নের কোনও বিকল্প নেই।
আব্দুস সালাম বলেন, ‘দেশের সমুদ্র, স্থল ও নৌ বন্দরগুলোর সংস্কার এবং আধুনিকায়নের জন্য পিপিপির আওতায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।’ তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে আমদানি নির্ভর বাণিজ্য কার্যক্রম বেশি হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে প্রতিবছর ৬ থেকে ৭ লাখ খালি কনটেইনার অন্যান্য দেশে পাঠানো হয়, যে কারণে অনেক সময় বন্দরে কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়ে থাকে।
ওয়েন্ডি ওয়ারনার বলেন, ‘বাংলাদেশে ওয়ারহাউজ নির্মাণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জমি প্রাপ্তি এবং এ বিষয়ক নীতি প্রণয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার মূলত কৃষি ও খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত খাদ্য গুদাম এবং স্টোরেজগুলোর আধুনিকায়নের জন্য বেসরকারি খাতের সহায়তা নিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানসম্মত ওয়ারহাউজ নির্মাণ করা সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক ভ্যালু চেইনগুলো তাদের পণ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশকে ব্যবহার করবে, এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে।’
তিনি ওয়ারহাউজ নির্মাণ প্রক্রিয়াকে বেগবান করার জন্য পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বন্দরগুলোর সঙ্গে নেটওয়ার্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রস্তাব করেন।
নির্ধারিত আলোচনায় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ-এর সিনিয়র ইকোনোমিস্ট ড. মাশরুর রিয়াজ, ডিসিসিআইর পরিচালক খন্দকার রাশেদুল আহসান এবং ফরেন চেম্বারের আহ্বায়ক সৈয়দ সাদাকত হোসেন অংশ নেন।