খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এখন পেঁয়াজ ও আলুর যে পরিমাণ চাহিদা আছে, সরবরাহ তার তুলনায় কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই দুটি পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। মূলত, গোল আলু সব ধরনের মাছ, মাংস ও সবজি রান্নার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। এমনকি পণ্যটি সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অনেকে আবার ডাল জাতীয় পণ্য হিসেবেও ব্যবহার করেন। ফলে সারা বছরই গোল আলুর চাহিদা থাকে। কিন্তু সারা বছর এই পণ্যটি চাষ হয় না। ক্রেতারা বলছেন, আলু ছাড়া তাদের বাজারই হয় না। রাজধানীর গোলাপবাগ এলাকার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আলুর দাম সব সময় কম থাকে। এবার কম দামি এই পণ্যটির দামও দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজের দামও বাড়ছে হু হু করে।’
অবশ্য সরকারের হিসাবে গত বছরের তুলনায় আলুর দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র তথ্য বলছে, গত এক বছরের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর গত এক মাসে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশেরও বেশি।
বাজারের তথ্য বলছে, এক মাস আগের আমদানি করা যে পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ টাকা কেজি, সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকাও বেশি দরে।
টিসিবি’র হিসাবে গত এক মাসে এই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। একইভাবে এক মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। ৪০ টাকা কেজি দেশি পেঁয়াজ এখন ৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এক বছর আগের ৬০ টাকা কেজি মসুরের ডাল এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ এই পণ্যটির প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। একইভাবে এক বছরের ব্যবধানে আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ১১০ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের এই দিনে এক কেজি আদা কিনতে ক্রেতাদের খরচ হতো ১৪০ টাকা। বর্তমানে সেই আদা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে। দাম বাড়ার এ তালিকায় থাকা দেশি রসুনের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
রাজধানীর মানিকনগর এলাকার ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী বলেন, ‘বড় বড় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মোকামে আগের দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে আলু-পেঁয়াজসহ সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।’
এদিকে নতুন করে দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকারও বেশি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের তথ্য নিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে।
এদিকে শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও দাম রয়েছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আগাম সবজি শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা। ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। উস্তের কেজি ১০০ টাকায়। বরবটি ৮০ টাকা কেজি, পটল, কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা পিস। ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।