চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বিদেশ সফরের জন্য ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ ‘বড় কোনও বিষয় নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভৌত অবকাঠামো) মো. মামুন আল রশীদ। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণে ৪ হাজার ১২২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ হাজার ‘বীর নিবাস’ করে দেওয়া হবে। এই প্রকল্পে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাতে ৪৮ লাখ টাকা খরচ রাখা হয়।
বীর নিবাস নির্মাণ প্রকল্পে ৪৮ লাখ টাকার বিদেশ সফরে বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন আল রশীদ বলেন, ‘সাধারণত এখন আমরা বিদেশ সফরের জন্য কোনও টাকা ধরি না। মুক্তিযোদ্ধাদের স্পিরিট ও মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট ফিল করার জন্য বলা হয়েছে। পৃথিবীতে শুধু বাংলাদেশ নয়, আরও অনেক দেশ আছে যারা দীর্ঘদিন যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। তারা কীভাবে সেসব স্পিরিট অনুভব করে, তাদের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়–এগুলো দেখার আছে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, ভিয়েতনাম দীর্ঘসময় যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে। তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যোদ্ধাদের জন্য কী করেছে–এগুলো সম্পর্কে আমাদের কিছুটা আইডিয়া হবে। আর যে প্রকল্প ৪ হাজার ১২২ কোটি টাকার, সেখানে ৪৮ লাখ টাকা কোনও টাকাই নয়। তাই আমি উৎসাহিত করেছি এবং বরাদ্দে কাটছাঁট করিনি।’
প্রকল্পটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোট ৬টি নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য বলেন, আমাদের কাছে যখন প্রকল্প প্রস্তাব এসেছিল, সেখানে প্রস্তাব ছিল ১৪ হাজার বীর নিবাস করা হবে। সেটা পরে দ্বিগুণেরও বেশি করে ৩০ হাজার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধার সামান্য কিছু হলেও ভিটেমাটি আছে। সুতরাং ওখানেই তার ঘর করে দেওয়া হবে। যদি ব্যতিক্রম পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে খাস জমি বা ইউএনও ও জেলা প্রশাসক জমির ব্যবস্থা করে ঘর করে দেবেন। ইতোমধ্যে ১৪ হাজার অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত হয়েছে। বাকিটা সামনে চিহ্নিত হয়ে যাবে।