ফরাসি চলচ্চিত্রে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড নিয়ে আপত্তিকর সংলাপটি নেটফ্লিক্স থেকে অনতিবিলম্বে অপসারণের আবারও অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিজিএমইএ’র পক্ষে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেনকে পাঠানো চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড নিয়ে আপত্তিকর সংলাপটি সরানোর জন্য দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আমরা পুনারায় ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বরাবর চিঠি লিখেছি।’
বিজিএমইএ পরিচালক উল্লেখ করেন, আমরা আশা করছি এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে সে বিষয়ে আমরা চিন্তা করবো। তবে এ ধরনের অবমাননাকর সংলাপ জাতি হিসেবে আমাদের বাংলাদেশিদের অনুভূতি ও গর্বকে আহত করে। তাই এ ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো।
বুধবার প্যারিস দূতাবাসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বরাবর চিঠি পাঠিয়ে এ অনুরোধ জানান সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান। চিঠিতে রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আপনার সার্বক্ষণিক সমর্থন প্রদান ও প্রচেষ্টার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ব্যবসা, অর্থনীতি আর সামাজিক বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সম্পর্ক কয়েক দশক ধরেই বিরাজমান।
তিনি বলেন, আপনার (রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ) এই সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিকে সামনে রেখে ২০২১ সালের ৯ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে চিঠি দিয়েছিলাম। চিঠিতে একটি বিষয়, যেটা বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে, তা উপস্থাপন করেছিলাম। ডেভিড শ্যারন পরিচালিত ‘লাস্ট মার্সেনারি’ নামে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ফরাসি সিনেমায় মেড ইন বাংলাদেশ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ছিল।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মেইড ইন বাংলাদেশ শুধু আমাদের জাতির জন্য গর্বের বিষয়, তা নয়; তার চেয়েও এর বিস্তৃতি আরও ব্যাপক। এর মধ্য দিয়ে জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবময় আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। মেইড ইন বাংলাদেশ’র মূল লক্ষ্য দেশের ব্র্যান্ডিং। লাখো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এই স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছরের ধারাবাহিকতায় পোশাকশিল্প আজ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত তিন দশক ধরে অর্থনীতির অন্যান্য খাতগুলোতেও এই শিল্পের সরব পদচারণা প্রশংসিত হয়েছে।
আমরা তৈরি পোশাকশিল্পকে সব দিক থেকে নিরাপদ, সুরক্ষিত, সবুজ ও টেকসই করার জন্য সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। সুরক্ষার জন্য সব নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করেছি ও সেরা ব্যবসায়িক অনুশীলনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তাই এসব ঘটনাগুলোর মাঝে যখন কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিটি খাতকে বিপর্যস্ত করে চলেছে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প কোভিড-১৯ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত, আন্তর্জাতিক বাজার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাওয়ার পথে রয়েছে, তখন আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড নিয়ে এ ধরনের অযৌক্তিক ও আপত্তিকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা নেটফ্লিক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চলচ্চিত্রের পরিচালককে আমাদের এই উদ্বেগের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাইনি। চলচ্চিত্রটি এখনও নেটফ্লিক্সের প্লে-লিস্টে আছে এবং চলচ্চিত্র থেকে সেই আপত্তির সংলাপগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়নি। আমরা বিশ্বে পোশাকশিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছি। তাই পোশাকশিল্প নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা এর নিন্দা জানাই ও আপনার মাধ্যমে ফরাসি সরকার ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নবিদ্ধ সংলাপটি অবিলম্বে অপসারণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানাই।