তিন শীর্ষ কর্মকর্তার পদ খালি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বন্ধ

বাংলাদেশ ব্যাংকবাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ তিন নীতিনির্ধারকের পদ এখন খালি। চুক্তি অনুযায়ী ২২ জানুয়ায়ি থেকে একসঙ্গে মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন ডেপুটি গভর্নরের। মেয়াদ শেষ হওয়া ডেপুটি গভর্নররা হলেন- আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা। এই কর্মকর্তারা না থাকার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। শুধু তাই নয়, কাজকর্মে সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিন ডেপুটি গভর্নর না থাকার কারণে রবিবার কোনও কাজই হয়নি। সোমবারও কোনও ফাইল সই হচ্ছে না। তিনি বলেন, একসঙ্গে তিনজন নীতিনির্ধারক না থাকার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে পদ শূন্য হয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পক্ষ থেকেও নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়নি। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিভিন্ন এজেন্ডা থাকলেও একসঙ্গে তিন ডেপুটি গভর্নর না থাকায় সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দু-একদিনের মধ্যে এই শীর্ষ তিন কর্মকর্তার মেয়াদ বাড়ানো অথবা নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে। দু-একদিনের মধ্যে জনপ্রশাসন থেকে এ আদেশ জারি হতে পারে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের মেয়াদ আবারও বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ২৩ জানুয়ারি চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা। ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নজরুল হুদা, জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী ও মুরশিদ কুলী খানের মেয়াদ পূর্তির ২২ দিন পর নিয়োগ দেওয়া হয় এই তিন ডেপুটি গভর্নরকে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ১০নং ধারার বিধান অনুযায়ী অন্যসব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তিনজনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর ১৯৮১ সালে সরাসরি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৯৭ সালে অর্থনীতিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তাছাড়া ১৯৮৯ সালে তিনি রুরাল ফাইন্যান্স বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিন মাসব্যাপী একটি কোর্সও সমাপ্ত করেন।

সিতাংশু কুমার সুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং-এ কৃতিত্বের সঙ্গে মাস্টার্স ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৮১ সালে সরাসরি সহকারী পরিচালক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদান করেন।

নাজনীন সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতকসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮০ সালে সরাসরি সহকারী পরিচালক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অটোমেশনের সার্বিক কাজের নেতৃত্বে ছিলেন।

/এএইচ/