কাঁচাবাজারে স্বস্তি, কমছে সবজি ও মাছের দাম

সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচাবাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বগতি থাকলেও বর্তমানে এসব পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। শীতের সবজি বাজারে পুরোপুরি আমদানি হওয়ায় ইতোমধ্যে সব ধরনের সবজির দাম অনেকটা কমে এসেছে। এদিকে বিগত দিনের তুলনায় সব ধরনের মাছ এখন কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া স্বস্তি ফিরেছে মাংস ও মসলার বাজারেও।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে বাজারে সবকিছুর দামই কমতির দিকে। শীতের সবজি বাজারে পুরোপুরি আসায় সকল ধরনের সবজিই আগের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের মাছের দামও কমতির দিকে। নতুন করে দাম বাড়েনি মাংসের দামও।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাওরানবাজার, মোহাম্মদপুর, শুক্রাবাদ, পশ্চিম রাজাবাজারসহ আরও কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এমনই চিত্র জানা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আজ ছুটির দিন সকাল থেকেই প্রতিটি দোকানে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। শীতকালীন সকল ধরনের সবজি বাজারে ওঠায় ব্যাগ ভরে কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।  

ফুলকপি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য সবজি/ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার কাঁচাবাজারে প্রকারভেদে শাক-সবজি বিক্রি হচ্ছে, শিম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৬০ টাকায়, আলু ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া বেগুন, করলা, পটল, ধুন্দল ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এদিকে মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, লাউ আকারভেদে প্রতি পিস পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা করে। লালশাক ও পালংশাক প্রতি আটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

পশ্চিম রাজাবাজার কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতা বেশি থাকে। এ সময় দাম একটু বাড়তি থাকে। সে তুলনায় আজ সকল ধরনের সবজি আগের চেয়ে কম দামেই বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমায় আমরাও কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে পারছি। বর্তমানে বাজার স্বাভাবিক আছে। সামনে সব ধরনের সবজির দাম আরও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই ব্যবসায়ী।

বাজার করতে আসা ক্রেতা মোখলেসুর রহমান বলেন, এখন সবজি খাওয়ার সময়। তাই ব্যাগ ভরে সবজি নিলাম। শীতের সময়ে সতেজ সবজি পাওয়া যায়। স্বাদও আলাদা। তিনি চট করে বলেন, দাম কমেছে, সবজির দাম আগের চেয়ে অনেক কম। তবে আরও কমলে আমাদের জন্য ভালো হয়।

এসব সবজির প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ একটু বেশিই থাকে/ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

এদিকে মাছের দাম কিছুটা কমে আসছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি রুই মাছ সব সাইজের ২২০ থেকে সর্বোচ্চ ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি মাছ আকারভেদে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা। এছাড়া তেলাপিয়া ও কই ২২০ থেকে ২৫০ এবং পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। ইলিশ এক কেজি সাইজের ওপরে কেজি ২০০০ টাকা এবং ছোট সাইজের ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের দোকানে দেখা গেছে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা, সোনালী ৩৪০ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, খাসি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১১০০ টাকা করে।

এছাড়া প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাঁস ও দেশি মুরগি ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজন ২১০ টাকায়।

নানা প্রকার সবজির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতা/ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

মাছ ব্যবসায়ী মো. শামীম বলেন, সব ধরনের মাছের দাম কমই আছে। মাছের বাজার বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। সামনে নতুন বছর কী হবে জানি না। তবে আমি মনে করি এখন মাছের যে দাম সেটা স্বাভাবিক।

আজ সকালে শুক্রবাদ কাঁচাবাজারে এসে তিন কেজি রুই মাছ কেনেন এনজিওকর্মী কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মাছের সিজন ছাড়া সাধারণত মাছ খুব একটা কম দামে পাওয়া যায় না। সবসময় প্রায় কাছাকাছি দামেই কিনতে হয়। তবে কয়েকদিন ধরে বাজারে এসে দেখলাম মাছের দামটা একটু কমই মনে হচ্ছে। বাড়বে-কমবে এর মাঝেই আমাদের চলতে হবে।

এদিকে পেঁয়াজের ঝাঁজও বাজারে কমে এসেছে। নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে, এসব এলাকার কোথাও কোথাও অলিতে-গলিতে ভ্যানে দেশি পেয়াঁজ আরও কম দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ আগের মতোই ৬০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। রসুন মান ভেদে ২৪০ থেকে ২৬০, ডাল ১২০ থেকে ১৪০, আটা ৬০ টাকা ও চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪৮ টাকা ধরে।