রবিবার নতুন গভর্নর হিসেবে যোগদান করেন ফজলে কবির। এ দিন সকালে গভর্নর ভবনের তৃতীয়তলায় সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দুপুরে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফিং করেন নতুন গভর্নর ফজলে কবির।
এদিকে গভর্নরের বিফ্রিং শেষে ৩০তলা ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে বিপত্তিতে পড়েন সাংবাদিকরা। অনেকে বিভিন্ন তথ্যের সন্ধানে গিয়ে ফিরে আসেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৩০তলা ভবনের প্রত্যেক দরজায় স্বয়ংক্রিয় তালা লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানা গেছে, কর্মকর্তারা ডিজিটাল আইডি কার্ড পাঞ্চ করে ব্যাংকে প্রবেশ করলেও সাংবাদিকদের জন্য কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এর ফলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারছেন না। এর মাধ্যমে সর্বসাধারণের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সব কর্মকর্তার যাতায়াতের রেকর্ড কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অলিখিত একটি নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। নিয়ম হচ্ছে, প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে প্রথমে ফোনে যোগাযোগ করতে হবে। তারপর ওই কর্মকর্তা চাইলে সাংবাদিক ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ওই কর্মকর্তার দেওয়া পাস সংগ্রহ করে সাংবাদিকদের নির্ধারিত তলায় যেতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডিজিটাল আইডি কার্ড পাঞ্চ সাপেক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন সাংবাদিক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই ওই সাংবাদিকের দায়িত্ব নিতে হবে।
তবে কড়াকড়ি আরোপের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আ ফ ম আসাদুজ্জামান। রবিবার বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। আগে সাংবাদিকরা যেভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশ করেছেন এখনও ঠিক সেভাবেই প্রবেশ করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের মাঝামাঝি একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই নীতিমালার আওতায় সব কর্মকর্তাকে ডিজিটাল আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়।
/এজে/