বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে সরকার শুরুতে অতি আত্মবিশ্বাসী ছিল। তারা ভেবেছিল, আলোচনার মাধ্যমে সহজেই বিষয়টি সমাধান করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে এখন দেশের রফতানি খাতকে এর বড় মূল্য দিতে হচ্ছে।
রবিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। দৈনিক প্রথম আলো এই গোলটেবিলের আয়োজন করে। আলোচনায় দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং গবেষকেরা অংশ নেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পাল্টা শুল্ক নিয়ে সরকারের কিছু মহলে এক ধরনের কৃতিত্ব নেওয়ার মানসিকতা কাজ করেছে। নীতিনির্ধারক মহলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক হয়তো ১০ শতাংশ কিংবা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি। ফলে এখন আমরা এক ধরনের অতি আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘শুধু নিজেদের অবস্থান নয়, প্রতিযোগী দেশগুলো কীভাবে এই শুল্ক পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে সেটিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি অশুল্ক বাধা, ভূরাজনৈতিক কৌশল এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলোও হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।’
বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় পোশাক সরবরাহকারী দেশ। এক দিনে এই দেশ থেকে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারবে না। বরং তারা দর-কষাকষির জায়গা খুঁজবে। উদ্যোক্তাদের উচিত হবে ক্রেতাদের সঙ্গে বসে এই বাড়তি শুল্কের বোঝা কীভাবে ভাগাভাগি করা যায়, সে বিষয়ে কৌশলী আলোচনা করা।’
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এই বাজার ধরে রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ভারতসহ অনেক দেশ এই পরিস্থিতিকে নিজেদের সুযোগ হিসেবে নিতে চাইছে। ফলে আমাদের এখন অতিমাত্রায় কৌশলী হতে হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘বিষয়টি আমাদের বুঝতে হবে, তা হলো—এই পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভবিষ্যতে এটি কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। কিন্তু এই আলোচনায় শুধু ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) নয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অতএব, এখন কেবল দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নয়, বরং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের লবিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে।’
সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো বলেন, ‘শুধু আশা নিয়ে বসে থাকলে হবে না। কাঠামোগত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ দিয়ে এই শুল্ক বিষয়ক আলোচনাকে এগিয়ে নিতে হবে।’